সাকিবের অভাব পূরণ করতে পারবেন মাহমুদউল্লাহরা?

ফিরতি অধিনায়ক হয়ে সাকিব আল হাসান অপেক্ষা করছিলেন টেস্টে মাঠে নামার জন্য। বেরসিক আঙুলের চোট হঠাৎই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে ছিটকে দিল সাদা পোশাকের দল থেকে। মাঠে নামার আগে টিম বাংলাদেশও পড়ল বড়সড় একটা ধাক্কার মুখে।
ক্যারিয়ারে ইনজুরির মুখোমুখি খুব বেশি হননি সাকিব। অন্তত দল থেকে আচমকা সরে যেতে হয়নি চোটের কারণে। এবার যখন আর নামতে পারছেন না মাঠে, গোটা বাংলাদেশ দল তখন দাঁড়িয়ে অগ্নিপরীক্ষার দ্বারপ্রান্তে।
এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই টানা পরাজয় বরণ করে নিতে হয়েছে ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচ আর সাকিবের চোটে পড়ার ফাইনাল ম্যাচেও। দেশসেরা পারফরমারের অনুপস্থিতি টেস্টের লড়াইয়ে বাংলাদেশ লড়তে পারবে কতটুকু, সেটার উত্তর সময়ই দিয়ে দেবে। তবে অতীত ঘেঁটে দেখলে মোটেও স্বস্তিতে থাকতে পারছেন না বাংলাদেশি ক্রিকেটভক্তরা।
শেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দুই টেস্ট ম্যাচের সিরিজে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। টানা ক্রিকেটের ক্লান্তি ঘোচাতে সেই সিরিজে বিশ্রামে গিয়েছিলেন সাকিব। তিন ফরম্যাটেই সেরা এই অলরাউন্ডারের অভাবটা দুটো টেস্টেই হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিল মুশফিকুর রহিমের বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টে হারতে হয়েছিল ৩৩৩ রানের বিশাল ব্যবধানে। আর দ্বিতীয় টেস্টে পরাজিত হতে হয়েছিল ইনিংস ব্যবধানেই।
অন্যদিকে ঠিক দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের আগেই ঘরের মাঠে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে উপহার দিয়েছিল হারের স্বাদ। ১-১ সমতায় শেষ করেছিল সিরিজ। শেরাবাংলায় বলা চলে বল আর ব্যাট হাতে একাই লড়েছিলেন সাকিব। প্রথম টেস্টের ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কারও উঠেছিল সাকিবের হাতে। লঙ্কার মাটিতে নিজেদের শততম টেস্ট জয়ের নায়কটাও ছিলেন সাকিবই।
শেষ দুই টেস্ট জয়ে যার ছিল সবচেয়ে বেশি অবদান, সেই সাকিবকে ছাড়া আবারও মাঠে নামতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। দলের সেরা খেলোয়াড়ের অভাবটা কখনই পূরণীয় নয়, সেটা আবদুর রাজ্জাক থেকে মাহমুদউল্লাহ—সবাই স্বীকার করে নিচ্ছেন একবাক্যে। এক সাকিবের বদলে তিনজন খেলোয়াড়ের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্তি আরো প্রতিষ্ঠা করে দিল ব্যাপারটা।
তবে এই সুযোগটাই নিতে পারে দলের অন্যান্য ক্রিকেটার। দশম টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামার অপেক্ষায় থাকা মাহমুদউল্লাহর কণ্ঠেও সেই তাগিদ, ‘সাকিব আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তাঁকে হারানো দলের জন্য বড় একটা ক্ষতি। তারপরও সবারই সুযোগ দলের জন্য ভালো কিছু করা। দলের সবাই বেশ উজ্জীবিত।’
সাকিব মাঠে থাকা মানে দলের জন্য অন্য রকম এক শক্তি। একাদশকে মানসিক একটা প্রশান্তি এনে দেয় বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের উপস্থিতি। চোটে জর্জরিত সাকিবকে ছাড়াই আপাতত প্রথম টেস্টটা শেষ করতে হবে বাংলাদেশকে। সাকিব ছাড়াও বাংলাদেশ দল যে মাঠে টেক্কা দিতে পারে সমানে সমানে তেমনটা প্রমাণের এটাই যে সবচেয়ে বড় সুযোগ।