পেসারদের মানসিকতা বদলাবেন ওয়ালশ

বিদেশের মাঠ কি ঘরের মাঠ শেষ কয়েক মাস ধরেই বাংলাদেশি পেসাররা ব্যর্থ সব জায়গাতেই। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ থেকে শুরু, শেষ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও পেসাররা মেলে ধরতে পারেননি নিজেদের। বাংলাদেশি পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ তাই শিষ্যদের নিয়ে ব্যস্ত বিশেষ অনুশীলন ক্যাম্পে। ১৪ জন পেসার ডাক পেয়েছেন এই ক্যাম্পে। আর সেখানেই রুবেল-মুস্তাফিজদের মানসিকতা নিয়েও কাজ করবেন বলেই জানালেন এই ক্যারিবীয় কিংবদন্তি।
শুধু মাঠের খেলায় পিছিয়ে আছেন বাংলাদেশি পেসাররা- এমনটা মনে করছেন না ওয়ালশ। বরং বাংলাদেশি গতিতারকাদের সমস্যা রয়েছে মানসিকতার দিক দিয়েও। কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেদের সেরাটা দিতে হয়, সেটাও শিখতে হবে তাসকিনদের। শুক্রবার পেসারদের বিশেষ অনুশীলন ক্যাম্পের প্রথম দিন শেষে ওয়ালশ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন পরিকল্পনার কথা।
মাঠে ঠিক যেমনটা থাকবে পরিস্থিতির চাওয়া, ওয়ালশ মনে করছেন পেসারদের তৈরি থাকতে হবে তেমনটাই দেওয়ার জন্য, ‘ক্যাম্পে আমরা বোলারদের মানসিক দিক নিয়েও কাজ করব। যে পরিবেশে ওরা খেলবে সেখানে তাদের করণীয় কী এই ক্যাম্প থেকে তাদের শিখতে হবে সেটা। ওদের মাঠে যেকোনো কিছু করার জন্য তৈরি থাকতে হবে।’
শ্রীলঙ্কার মাঠে বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করছে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ ‘নিদহাস ট্রফি’। শ্রীলঙ্কা আর বাংলাদেশের সঙ্গে সেই সিরিজে মাঠে নামবে ভারতও। ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজে হেরেছে বাংলাদেশ, হারতে হয়েছে টেস্টেও আর টি-টোয়েন্টি সিরিজে তো মিলেছে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা।
তবে সে নিয়ে পড়ে থাকলে তো হচ্ছে না। লঙ্কার মাঠে নামার আগে তাই ওয়ালশ শিষ্যদের তাগিদ দিচ্ছেন অতীত ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে, ‘ঘরের মাঠে আমরা ভালো করতে পারিনি। শ্রীলঙ্কায় আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং একটা সিরিজ অপেক্ষা করছে। শেষ সিরিজে কী হয়েছে সেটা ভুলে যেতে হবে। সামনে কী আসছে সেদিকে মনোযোগটা রাখতে হবে।’
মানসিক দিকের সাথে ওয়ালশ নজর দিচ্ছেন পেসারদের ধারাবাহিকতার দিকেও, ‘আমরা ধারাবাহিকতার দিকে মনোযোগ দেব। শেষের দিকে বোলিংটা আমাদের প্রত্যাশামতো হয়নি। ধারাবাহিক হতে পারলে ১০ বারের চেষ্টায় ৮বারই ওরা সফল হবে।’
ঘরের মাঠ কিংবা বাইরে সব মিলিয়ে বাংলাদেশি পেস বোলিং কেন ব্যর্থ, এই নিয়ে অনেক ময়নাতদন্ত হয়েছে। স্বয়ং পেস বোলিং কোচ এবার নিজে জানালেন এই ব্যাপারে তাঁর মতামত, ‘ওরা অনেক কিছু করার চেষ্টা করেছে ঠিক। কিন্তু ওদের প্রয়োগটা ভুল ছিল। পরিস্থিতি অনুযায়ী ওদের বুঝতে হবে কখন কী করতে হবে, আর সেটা কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।’