‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের দায় বাংলাদেশের একার নয়’

Looks like you've blocked notifications!
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ (সিপিএস) এবং নেদারল্যান্ডসের উট্রেক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর গ্লোবাল চ্যালেঞ্জস (ইউগ্লোব) যৌথ উদ্যোগে ‘রোহিঙ্গাদের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে অংশগ্রহণকারীরা। ছবি : সংগৃহীত

নেদারল্যান্ডসের কূটনীতিক বিশেষজ্ঞ, কফি আনান কমিশনের সাবেক সদস্য লেটেসিয়া ভ্যান ডেন আসাম বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের দায় বাংলাদেশের একার নয়। এখানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা প্রয়োজন এবং রোহিঙ্গাদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রদান করা দরকার।’ গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে একথা বলেছেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়।

নেদারল্যান্ডসের উট্রেক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সেন্টার ফর গ্লোবাল চ্যালেঞ্জস (ইউগ্লোব) এবং বাংলাদেশের নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ’র (সিপিএস) যৌথ উদ্যোগে ‘রোহিঙ্গাদের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বক্তারা গত ২৩ মে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে মিয়ানমারের পেশ করা প্রতিবেদন বিশ্লেষণ এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর গণহত্যা রোধে ব্যর্থতার জন্য মিয়ানমার সরকারকে দায়ী করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামগ্রিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন। 

রোহিঙ্গাদের সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে কাজ করা ইয়াসমিন উল্লাহ বলেন, ‘মিয়ানমারের পূর্ববর্তী প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয়ই রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের দায় এড়াতে পারে না।’ তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন অতিজরুরি এবং গণহত্যার দায়ে জড়িত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিচার করতে হবে।           

কূটনীতিক বিশেষজ্ঞ লেটেসিয়া ভ্যান ডেন আসাম বলেছেন, ‘২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের পর থেকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা আরও কমে গেছে। কারণ, তাদের ওপর গণহত্যা চালানো সামরিক বাহিনীই এখন ক্ষমতায় এসেছে।’

নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনি পরামর্শক জনাব ভিনসেন্ট ডি গ্রাফ গাম্বিয়া, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং বাংলাদেশের পক্ষে তাদের সমর্থন জোরদার করার জন্য ডাচ পার্লামেন্ট সদস্য এবং সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন এবং তিনি নিশ্চিত করেন যে, এ ক্ষেত্রে মিয়ানমারের জবাবদিহিতা প্রক্রিয়াটি সমর্থনে তাঁর সরকার আইসিজে এবং অন্যান্য বহুপক্ষীয় ফোরামে দৃঢ়ভাবে সচেষ্ট থাকবে।   

টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ফেলো এবং হেগের স্থায়ী সালিশি আদালতের সদস্য অধ্যাপক পায়াম আকাভান বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই রোহিঙ্গাদের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার জন্য চলমান তদন্তে ধারাবাহিক মনোযোগ নিশ্চিত করতে হবে। আইসিসি ও আইসিজে উভয়ই জবাবদিহিতা প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত রয়েছে, যা আসলে নজিরবিহীন।’

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত জনাব শহীদুল হক, যিনি বর্তমানে এনএসইউতে এসআইপিজির প্রফেসোরিয়াল ফেলো হিসেবে কর্মরত রয়েছেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী জাতিগত নিধন ও প্রতিরোধযোগ্য গণহত্যাকে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হওয়ায় জাতিসংঘের সমালোচনা করেন। তারপরও তিনি আশাবাদী যে, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক আদালতগুলো এখনও রোহিঙ্গাদের অধিকার রক্ষায় কিছু করতে পারে।           

এই আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারএ স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন উট্রেক বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবাধিকার আইন ও গ্লোবাল জাস্টিসের সহযোগী অধ্যাপক ড. ব্রায়ান ম্যাকগনিগেল লেহ। উট্রেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক ইন্টারন্যাশনাল ল বিভাগের অধ্যাপক সেড্রিক রিঙ্গার্ট এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান ইন্সিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স’র (এসআইপিজি) পরিচালক এবং ডিপার্টমেন্ট অব পলিটিকাল সায়েন্স অ্যান্ড সোশিওলজি’র (পিএসএস) চেয়ারম্যান অধ্যাপক তৌফিক এম. হক ওয়েবিনারটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন। পিএসএস’র সহযোগী অধ্যাপক এবং সিপিএসের সদস্য ড. এম জসিম উদ্দিন ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি ওয়েবিনারের অংশগ্রহণকারী ও নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এই ওয়েবিনারে বিভিন্ন দেশের আইনজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, কূটনীতিক, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।