Beta

অসম্ভবকে সম্ভব করল ১৩ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী

২৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:১৩ | আপডেট: ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:১৪

পাবনা মানবকল্যাণ ট্রাস্টের সহায়তায় জেএসসি পরীক্ষা দিয়ে ভালো ফলাফল অর্জন করা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা। ছবি : এনটিভি

চোখের আলো না থাকলেও এবারের জেএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করেছে পাবনার ১৩ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। শ্রুতি লেখকের সহায়তায় অন্য সব শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তারা এই সফলতা অর্জন করে।

পাবনা মানবকল্যাণ ট্রাস্টের সহায়তায় পাবনা শহীদ এম মনসুর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও চরবলরামপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে পরীক্ষা দেয় তারা। পাবনার বিশিষ্টজনরা ১৩ এই শিক্ষার্থীর সফলতাকে অভিনন্দন জানিয়ে তাদেরকে সহায়তা করতে সামর্থ্যবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

যারা ভালো ফলাফল করেছে তারা হলো নওগাঁর আমিনুল ইসলামের ছেলে মো. কাওসার ইসলাম (জিপিএ ৪.৯), শরীয়তপুরের শাহীন আলম (জিপিএ ৪.৭), পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আব্দুস সাত্তারের ছেলে মো. আব্দুস সবুর (জিপিএ ৪.৬৪), কুড়িগ্রামের মাসুদ রানা (জিপিএ ৪.৪৩), চাঁপাইনবাবগঞ্জের আনসার আলীর ছেলে মোশারফ হোসেন (জিপিএ ৪.৩৬), পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের মো. চাঁদ আলী শেখের ছেলে আলামিন শেখ (জিপিএ ৪.২৯), বগুড়ার জাকির হোসেনের ছেলে হযরত আলী (৪.২১), কুমিল্লার নিমাই চন্দ্র দের ছেলে বাপ্পি চন্দ্র দে (জিপিএ ৪.২১), নাটোরের সেলিম মৃধার ছেলে আমিরুল ইসলাম মৃধা (জিপিএ ৪.২১), পাবনার সুজানগর উপজেলার আজাদ শেখের ছেলে লোকমান হোসেন শেখ (জিপিএ ৪.১৪), পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার কুদ্দুস মিয়ার ছেলে মো. আব্দুল্লাহ মিয়া (জিপিএ ৩.৯৩),  রাজশাহীর মো. জামাল উদ্দিনের ছেলে রুবেল ইসলাম (জিপিএ ৩.৭১) ও কুমিল্লার রাসেল আহমেদ (জিপিএ ৩.৫৭)।

শিক্ষার্থী লোকমান শেখ বলে, অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শ্রুতি লেখকের সহায়তায় একই প্রশ্নে তাদের পরীক্ষা দিতে হয়। অনেক সময় তারা সঠিক বলে দিলেও শ্রুতি লেখক লিখতে ভুল করে বসে। এতে নম্বর কমে যায়।

লোকমান জানায়, শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে দেশের সমস্ত অন্ধদের সাহায্য করাই তার মূল লক্ষ্য।

পাবনা মানবকল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আবুল হোসেন বলেন, অন্ধদের লেখাপড়ার জন্য প্রয়োজন ব্রেইল পদ্ধতি। অথচ দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ সুযোগ নেই। এখন পরীক্ষার জন্য প্রয়োজন শ্রুতি লেখকের। দরিদ্র এসব অন্ধদের শ্রুতি লেখকদের সম্মানী তো দূরের কথা লেখাপড়ার করার ন্যূনতম আর্থিক ব্যয় নির্বাহ করারও সক্ষমতা নেই। তারপরেও থেমে থাকেনি এসব সংগ্রামী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর শিক্ষাজীবন।

অধ্যাপক আবুল হোসেন বলেন, এই ১৩ জন পরীক্ষার্থীর মত আরো প্রায় ৫২ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পাবনার মানবকল্যাণ ট্রাস্টে থেকে ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখাপড়া করছে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে নবম শ্রেণিতে ছয়জন, দশম শ্রেণিতে সাতজন, একাদশ শ্রেণিতে পাঁচজন, এমএতে দুজনসহ বিভিন্ন শ্রেণিতে তাদের শিক্ষাকার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

পাবনার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক কামরুজ্জামান বলেন, এ সব অন্ধ শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জকে আমাদের সহায়তা করা উচিত। তাদের এই ফলাফল প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। মানবকল্যাণ ট্রাস্টকে সরকারি পৃষ্টপোষকতা দেওয়া হলে সারা দেশের দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের সর্বোৎকৃষ্ট শিক্ষালয় হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

পাবনার জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অন্ধ শিক্ষার্থীদের ফলাফল আশাব্যঞ্জক। এদের সহায়তা করতে সরকার সম্ভাব্য সহায়তা করবে।

Advertisement