ইবির দুই শিক্ষকের পদাবনতি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যের অডিও ফাঁসের ঘটনার জড়িত দুই শিক্ষকের পদাবনতি দেওয়া হয়েছে। একজনকে অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক ও অপরজনকে সহযোগী অধ্যাপক থেকে সহকারী অধ্যাপক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া তেল চুরির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসচালক মনসুর রহমানকে ১৩ লাখ টাকা জরিমানা ও জোরপূর্বক অবসর দেওয়া হয়েছে।
আজ শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪৪তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ। এছাড়াও সিন্ডিকেট সভায় অপর দুই শিক্ষককে চাকরিচ্যুত ও জোরপূর্বক অবসর দেওয়া হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জানান, গত বছরের ১৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ ও বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুলের বিরুদ্ধে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত থাকার অডিও ফাঁস হয়। এ ঘটনায় সেই সময় ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রশাসন। কমিটির প্রতিবেদন দেখে শুক্রবার ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদকে অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক ও বাকী বিল্লাহ বিকুলকে সহযোগী অধ্যাপক থেকে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদাবনতি দেওয়ার সিন্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যায়ের সিন্ডিকেট।
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. গাজী ওমর ফারুককে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব হারানোর অভিযোগে জোরপূর্বক অবসরে পাঠানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তারেকুজ্জামানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আদেশ অমান্য করার দায়ে চাকরিচূত্য করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও গত বছরের ৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমারের বিরুদ্ধে ছাত্রী হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী ছাত্রীর ওই ব্যাচে সঞ্জয় কুমার কোন ক্লাস-পরীক্ষা গ্রহণ করতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তেলচুরির অভিযোগে ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর বাসচালক মনসুরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সেসময় কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আহসান উল আম্বিয়ার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
ওই চালক কুষ্টিয়া-স ১১০০৫ সিরিয়ালের একটি বাস চালাতেন। তদন্তে তার বাসে বিগত দুই বছরের তেলের হিসাবে ব্যাপক গরমিল পাওয়া যায়। আজকের সিন্ডিকেটের সভায় চালক মনসুরকে জোরপূর্বক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। সিন্ডিকেট তার ওপর ১৩ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের প্রধান এজেন্ডা দুর্নীতি প্রতিরোধ করা। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরোটলারেন্স জারি করেছে। বর্তমান প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণরুপে দুর্নীতি মুক্ত করতে চায়। বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের অভিযোগ সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে বিবেচনায় এনে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় মাইলফলক হয়ে থাকবে।’