Beta

ইবিতে ১৪৪ ধারা জারি

২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১৮:১৬

ইবি সংবাদদাতা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির দাবিতে আন্দোলনকারী ২২ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। আজ বুধবার ভোর ৫টার দিকে ক্যাম্পাসের বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবনে অনশন চলাকালে শিক্ষার্থীদের আটক করা হয়।

এ দিকে ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারি করে সব ধরনের  মিটিং-মিছিল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

সূত্র মতে, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিজ্ঞান অনুষদ বিভক্ত করে তিনটি অনুষদ করে কর্তৃপক্ষ। বিভক্ত হওয়া নতুন তিন অনুষদ হচ্ছে বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ। নতুন বৃদ্ধি হওয়া প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ২০১৮-১৯ ও ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। একই অনুষদের ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির মান দেওয়ার দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার থেকে ক্যাম্পাসের ড. ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবনে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সারা দিনের আন্দোলন শেষে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় রাতে অনশন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে ওই ভবনে ছাত্র উপদেষ্টা  অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণ এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মমতাজুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। ভোর ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে র‌্যাব ও পুলিশ গিয়ে আন্দোলনকারী ২২ জনকে আটক করে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ছাত্র উপদেষ্টা ও ডিনকে পুলিশ ও র‌্যাব অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করে।

এদিকে আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারি করে সব ধরনের মিটিং, মিছিল ও সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বন্ধ রয়েছে শিক্ষার্থীবহনকারী সব পরিবহন। ফলে কোনো বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের অভিভাবক। অভিভাবক হয়ে পুলিশ দিয়ে যৌক্তিক আন্দোলন থেকে তাদের আটক করেছে যা ন্যক্কারজনক।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, আন্দোলনকারী ২২ জন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আনিছুর রহমান বলেন, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে সব ধরনের মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ কে আজাদ লাভলু বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০টি বিভাগের কোর্স ফাইনাল পরীক্ষা অনিবার্যকারণ বশত বন্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পেছনে ভিন্ন কোনো কারণ রয়েছে। কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ জেলার গোয়েন্দাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা আসল ঘটনা উদঘাটন করতে কাজ করছে।

Advertisement