Beta

ছাত্রলীগের কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে দুদিনের আল্টিমেটাম

১৪ মে ২০১৯, ১৭:৩৭

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা
ছাত্রলীগের কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। ছবি : ফোকাস বাংলা

দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ না পাওয়ায় বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন পদবঞ্চিতরা। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন অপরাধমূলক মামলার আসামি, নিষ্ক্রিয়, বিবাহিত, অছাত্র ও চাকরিজীবীদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ দেওয়া হয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে দুই দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। তা না হলে গণপদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা। আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে এই হুমকি দেন তাঁরা।

ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনের এক বছর পর গতকাল সোমবার পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা। ওই কমিটিতে জায়গা না পেয়ে কমিটি পুনর্বিবেচনার জন্য বিকেলে ঢাবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন পদবঞ্চিতরা। সেখানে হামলা করে পদপ্রাপ্তরা। এ নিয়ে সন্ধ্যায় মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে সেখানেও হামলার শিকার হন পদবঞ্চিতরা।

এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করেন পদবঞ্চিতরা।  এ সময় ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের দুই শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ না পাওয়া সংগঠনটির সাবেক প্রচার সম্পাদক সাইফুদ্দিন বাবু বলেন, যারা বিগত সময়গুলোতে সক্রিয়ভাবে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের একটি বৃহৎ অংশকে বাদ কিংবা সঠিক পদে মূল্যায়ন করা হয়নি। যারা নিষ্ক্রিয়, সাবেক চাকরিজীবী, বিবাহিত, অছাত্র, গঠনতন্ত্রের অধিক বয়স্ক, বিভিন্ন মামলার আসামি, মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে যারা ছাত্রলীগ থেকে আজীবন বহিষ্কার হয়েছিল তাদেরকেই ছাত্রলীগে পদায়ন করা হয়েছে। এটা আমাদের ব্যথিত করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন শেষে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। ছবি : ফোকাস বাংলা

সাইফুদ্দিন বাবু আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানান। এ সময় দাবি না মানলে অনশন ও গণপদত্যাগের ঘোষণা দেন নতুন কমিটির সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপসম্পাদক নিপু তন্বী। তিনি শামসুন নাহার হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ডাকসুর সদস্য।

রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি বিএম লিপি আক্তার বলেন, আমি রোকেয়া হলের সভাপতি এবং ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় আমাকে ছাত্রলীগের উপসম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছে। আমি ছাত্রলীগের সেক্রেটারিকে জিজ্ঞেস করেছি, কোন ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে আপনি আমাকে ছাত্রলীগের উপসম্পাদক পদ দিয়েছেন। তিনি উত্তর দিয়েছেন, ডাকসুর গুরুত্বপূর্ণ পদে আছি, বলে আমাকে এই পদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাপারটা এমন আপনি এবার এমপি নির্বাচন করেছেন, এবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচন করেন। আমার প্রশ্ন হলো- আপনি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে থেকেও কেন ডাকসু নির্বাচন করলেন।

লিপি আক্তার অভিযোগ করে বলেন, কমিটিতে যারা স্থান পেয়েছেন তাঁরা শোভন-রাব্বানী কমিটির ৮-১০ মাস রাজনীতি করেছেন, তাঁদের পেছনে-পেছনে ঘুরেছেন। তাদের মেকানিজমে যারা, তাদেরই কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। আগের দুই কমিটির ত্যাগী কাউকে রাখা হয়নি।

হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটির ব্যাপারে ছাত্রলীগ ও ডাকসুর এই নেত্রী বলেন, ‘যারা মধুর ক্যান্টিনে মারধর করেছে তাদেরই তদন্ত কমিটির সদস্য করা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটি আমরা মানি না। ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সরাসরি নির্দেশেই হামলা চালানো হয়েছে।

Advertisement