Beta

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নজরদারি বেড়েছে

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ২১:১৫ | আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ২১:২৫

সৈয়দ সামিউল বাশার

মোবাইল ব্যাংকিং সেবার ওপর নজরদারি বেড়েছে। এ ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশ ব্যাংক ও জেলা প্রশাসন পদক্ষেপ নিচ্ছে। দেশজুড়ে চলমান সহিংসতা প্রতিরোধে এর অর্থায়নকারীদের চিহ্নিত করতে এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সহিংসতা প্রতিরোধে দেশি ও বিদেশি ব্যাংকের লেনদেনের ওপরও নিয়মিত নজরদারি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করতে সন্দেহভাজন লেনদেনের ওপর কঠোর নজরদারি রাখতে সম্প্রতি ব্যাংক, মোবাইল ফোন অপারেটর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, সহিংসতা সৃষ্টি ও পরিকল্পনার জন্য দেশ ও বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংক, হুন্ডি ও কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে। অন্তত এক লাখ মোবাইল ব্যাংক হিসাব এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে। ওই সব হিসাব খুলতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের ৯৮ হাজার ২৮৩টি হিসাব চিহ্নিত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), মোবাইল অপারেটর ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে সন্দেহভাজনদের কার্যক্রম বন্ধ করতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

গত রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজি হাসান বলেছেন, কঠোর নজরদারির মাধ্যমে অর্থায়ন সন্ত্রাস ঠেকাতে এরই মধ্যে সব ব্যাংককে সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘১০ ফেব্রুয়ারি আমরা সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ও অর্থপাচার রোধকারী বিভাগের প্রধানদের নিয়ে বৈঠক করেছি। সন্দেহভাজন অর্থ লেনদেনকারীদের তথ্য সংরক্ষণ করে নিয়মিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও বাংলাদেশ ফাইন্যানশিয়াল গোয়েন্দা ইউনিটের প্রধান রাজি হাসান আরো বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের গত ছয় মাসের আর্থিক বিশ্লেষণ প্রতিবেদন ও সন্দেহভাজন লেনদেনকারীদের তথ্য পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন ঠেকাতে এরই মধ্যে আঞ্চলিক ব্যাংক কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মোবাইল অপারেটর কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিভিন্ন জেলার প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

চলতি মাসের শুরুতে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এ ধরনের একটি বৈঠকের সারসংক্ষেপ এনটিভি অনলাইনের কাছে রয়েছে। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জেলা ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী। বৈঠকে বক্তারা বলেছেন, বিভিন্ন ব্যাংকে সন্দেহভাজন লেনদেন চিহ্নিত করা যেতে পারে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কুরিয়ার সার্ভিস, মোবিক্যাশ, ইউক্যাশ ও বিকাশের মাধ্যমে সন্দেহভাজন অর্থ লেনদেন চিহ্নিত করা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অসম্ভব। ফলে এক সময়ে ২০ হাজার বা তদূর্ধ্ব পরিমাণ টাকা লেনদেন করা গ্রাহকদের তথ্য সংরক্ষণের জন্য সব কুরিয়ার সার্ভিস ও মোবাইল কোম্পানির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপকদের অনুরোধের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয় ওই বৈঠকে। 

এ ধরনের সিদ্ধান্তের কথা স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে তাঁরা দৈনিক অর্থ লেনদেনের তথ্যসম্বলিত একটি চিঠি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পেয়েছেন।’

বিভিন্ন জেলার প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে ব্যাংক গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য চাইতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাহায্য চাওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আদালত আদেশ বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা ছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংকের গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি বাধা রয়েছে। সে জন্য এ ব্যাপারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এরই মধ্যে চিঠি দিয়েছি।’

কোনো তথ্য প্রয়োজন হলে জেলা প্রশাসকের অফিস কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগিতা চাইতে পারবে বলে জানিয়ে মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘যদি তাদের প্রয়োজন হয়, তারা সাহায্য চায়, তবে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’

২০১০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক মোবাইলের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের সেবা ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয়। ২৮ ব্যাংক এ সেবা ব্যবস্থা চালুর অনুমোদন পায়। এর মধ্যে ১৯টি ব্যাংক এ সেবা দিচ্ছে। দেশে পাঁচ লাখ ৪১ হাজার মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট রয়েছে, যাদের দুই কোটি ৫২ লাখ ৫৬ হাজার নিবন্ধিত গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে এক কোটি ২১ লাখ ৫৪ হাজার গ্রাহকের হিসাব সচল রয়েছে বলে গত জানুয়ারি মাসের শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল। 

গত ৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের অবরোধ-হরতালের মধ্যে সহিংসতায় অন্তত ৫৯ জনের মৃত্যু ও আরো অনেকে আহত হয়েছেন। আর সহিংসতার কারণে দেশের অর্থনীতির সব খাতই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। 

Advertisement