Beta

টিএসসিতে বাঁশখালী যুবলীগের সভাপতিকে মারধর

২২ এপ্রিল ২০১৯, ১৮:১৩

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা
মারধরের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম (বাঁয়ে)। ছবি : এনটিভি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক-ছাত্র কেন্দ্রে (টিএসসি) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি তাজুল ইসলামকে মারধর করেছেন শিক্ষার্থীরা। দুই ছাত্রীকে দেখে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করার অভিযোগে আজ সোমবার বিকেলে তাজুল ইসলামকে মারধর করা হয়।

ঘটনার একপর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী সুমন লোকজন নিয়ে এসে তাজুল ইসলামকে রক্ষা করেন এবং তিন শিক্ষার্থীকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা সহযোগিতা করেন। সুমনের বাড়িও বাঁশখালী উপজেলায়।

তাজুল ইসলাম বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে তিনি চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর একান্ত সচিবের (পিএস) দায়িত্বপালন করছেন।

অভিযোগকারী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির দুই ছাত্রী ও এক ছাত্র আজ ছুটির দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘুরতে আসেন। প্রায়ই তাঁরা ক্যাম্পাসে এসে আড্ডা দেন। আজ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাঁরা তিন বন্ধু টিএসসিতে বসে কার্ড খেলছিলেন। এমন সময় ইউপি চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা তাজুল ইসলাম তাঁর  প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে ওই দুই ছাত্রীকে লক্ষ্য করে অশ্লীল  অঙ্গভঙ্গি করেন। পরে তাঁদের মধ্যে এক ছাত্রী বিষয়টি বুঝতে পারলে তাঁর পাশের বান্ধবীকে জানান। পরে তাঁরা তিন বন্ধু উঠে দাঁড়ালে তাজুল ইসলাম টিএসসির গেটের দিকে হাঁটা শুরু করেন। এরপর তাজুলকে থামাতে ওই তিন শিক্ষার্থী টিএসসির গেটম্যান কিরণকে ইশারা দিয়ে তাঁকে থামাতে বলেন। তাজুল তখন টিএসসির প্রধান  গেটের সামনে চলে আসেন। সেখানে তাঁরা তিনজন তাজুল ইসলামকে মারধর করেন। তাঁদের অভিযোগের কথা শুনে পরে আরো কয়েকজন শিক্ষার্থীও তাজুলকে মারধর করেন।

পরে ঘটনাটি তাজুল ইসলাম তাঁর এলাকার পরিচিত ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী সুমনকে জানান।  কিছুক্ষণ পর সুমন কয়েকজন লোক নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। এর আগে ঘটনাস্থলে এসে হাজির হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা। তাঁরা তাজুল ইসলাম ও ওই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে রিয়াজ উদ্দিন সুমনও ওই দুই ছাত্রীর থেকে ঘটনাটি শুনেন। ঘটনাটি শুনে তিনি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ওই তিন শিক্ষার্থীকে থানায় দিতে প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যদের নির্দেশ দেন। এরপর প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা তাঁদের টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে নিয়ে যান। সেখানে সুমনের নির্দেশে ওই তিন শিক্ষার্থীকে পুলিশের গাড়িতে তুলে দেন প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা। তখন সুমন ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি টিএসসিতে দাঁড়িয়ে প্যান্টের পকেটে হাত রেখে ফোনে কথা বলছিলাম। একপর্যায়ে তারা পেছন থেকে আমাকে ডেকে মারধর করেন।’

তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয় বলে জানান যুবলীগ নেতা। তবে শিক্ষার্থীরা তাড়া দিলে তিনি পালিয়ে যেতে দৌড় দেন বলে স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী সুমন বলেন, ‘তাজুল ইসলাম আমার এলাকার। তাঁর নামে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সত্য-মিথ্যা কতটুকু জানি না। তাঁরা তাঁকে ব্যাপক মারধর করেছেন।’

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান এনটিভি অনলাইনকে বলেন, প্রক্টর টিম এসে তিন শিক্ষার্থীকে দিয়ে গেছে। আমি কিছুই জানি না।

যোগাযোগ করা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘প্রক্টর টিমকে আমি আবারও থানায় পাঠিয়েছি। তারা পুরো ঘটনা জেনে বিষয়টি দেখবে।’

Advertisement