Beta

দ্বিতীয় পর্ব

মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে কী আছে?

০৬ মে ২০১৯, ১৬:২৮ | আপডেট: ০৬ মে ২০১৯, ১৬:৩২

রাজেশ চৌধুরী

মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের প্রথম পর্বে পুত্রের কন্যা (নাতনি) পর্যন্ত উত্তরাধিকার আইন সম্বন্ধে এনটিভি অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছিল। এবার দ্বিতীয় পর্বে বাকি অংশীদারদের উত্তরাধিকার নীতি সম্বন্ধে আলোচনা করা হলো।

মা কত ভাগ পাবে

মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুসারে মা তিন অবস্থায় সম্পত্তি পেতে পারেন। প্রথমত, সন্তান বা পুত্রের সন্তানের উপস্থিতিতে অথবা মৃত সন্তানের আপন, বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয় দুই বা ততোধিক ভাই-বোনের উপস্থিতিতে মা ১/৬ অংশ সম্পত্তি পান।

কিন্তু কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তানের অনুপস্থিতিতে এবং মৃত সন্তানের ভাইবোনের সংখ্যা একজনের বেশি না হলে মা ১/৩ অংশ পাবেন। আবার এই অবস্থায় যদি মৃত সন্তানের স্বামী বা স্ত্রী ওয়ারিশ হয় মা অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে ১/৩ অংশ পাবেন।

আপন বোন

আপন বোন একজন থাকলে এককভাবে ১/২ অংশ এবং একাধিক আপন বোন থাকলে একত্রে ২/৩ অংশ পান। কিন্তু আপন ভাইয়ের অস্তিত্ব থাকলে ভাইয়ের সঙ্গে অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে ২:১ হারে সম্পত্তি পান।

কিন্তু মৃত ব্যক্তির সন্তান বা পুত্রের নিম্নগামী সন্তান, পিতা বা পিতার ঊর্ধ্বগামীর উপস্থিতিতে আপন বোন উত্তরাধিকার হতে বাদ পড়ে। এমনকি মৃত ব্যক্তির এক বা একাধিক কন্যা বা পুত্রের কন্যার উপস্থিতিতে ও আপন বোন উত্তরাধিকার হতে বাদ পড়ে।

বৈমাত্রেয় বোন

আপন বোনের মতই একজন বৈমাত্রেয় বোন ১/২ অংশ, একাধিক বৈমাত্রেয় বোন একত্রে ২/৩ অংশ সমানভাগে পায়। কিন্তু একজন মাত্র আপন বোন থাকলে বৈমাত্রেয় বোন যতজনই থাকুক শুধু ১/৬ অংশ পাবেন। আবার বৈমাত্রেয় ভাই থাকলে অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে ২:১ হারে সম্পত্তি পাবে।

কিন্তু মৃত ব্যক্তির সন্তান বা পুত্রের সন্তান, পিতা বা তার ঊর্ধ্বগামী, একাধিক আপন বোন কিংবা ভাইয়ের উপস্থিতিতে বৈমাত্রেয় বোন বাদ পড়বে।

বৈপিত্রেয় ভাই ও বোন

মৃত ব্যক্তির সন্তান বা পুত্রের সন্তান কিংবা পিতা বা পিতামহের উপস্থিতিতে বৈপিত্রেয় ভাই বা বোন উত্তরাধিকার হতে বাদ পড়ে। এ ছাড়া একজন বৈপিত্রেয় ভাই বা বোন ১/৬ অংশ এবং একাধিক ভাই বোন একত্রে ১/৩ অংশ সমানভাবে পাবে।

অবশিষ্টাংশভোগীদের উত্তরাধিকার

এরা দ্বিতীয় শ্রেণির ওয়ারিশ। শুধু অংশীদারের অনুপস্থিতিতে বা অংশীদারদের মধ্যে বণ্টনের পর কিছু অবশিষ্ট থাকলেই এই শ্রেণির ওয়ারিশরা সম্পত্তি পেয়ে থাকেন। অবশিষ্টাংশভোগীদের সবাই মৃত ব্যক্তির পিতৃবংশের সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে পুরুষ সদস্যরা নিজ অধিকারসূত্রে এই শ্রেণির অন্তর্গত। যেমন, পুত্র বা পুত্রের পুত্র বা আপন ভাই এবং বৈমাত্রেয় বোন।

আবার, পুরুষ আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্কের সুবাদে চারজন নারী, পুরুষের অর্ধেক হিসেবে সম্পত্তি লাভ করে থাকেন। যেমন, কন্যা পুত্রের সঙ্গে, আপন বোন আপন ভাইয়ের সঙ্গে বা বৈমাত্রেয় বোন, বৈমাত্রেয় ভাইয়ের সঙ্গে অর্ধেক হিসেবে অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে সম্পত্তি লাভ করেন যদিও পুরুষ সদস্যের অনুপস্থিতিতে এরা সবাই অংশীদার হিসেবে সম্পত্তি লাভ করে।

দূরবর্তী আত্মীয়রা

উপরের দুই শ্রেণির অনুপস্থিতিতে দূরবর্তী আত্মীয়রা সম্পত্তি লাভ করেন। এর মধ্যে এক নম্বর উপশ্রেণির সদস্য হল মৃত ব্যক্তির কন্যার বংশধর, পুত্রের কন্যার বংশধর। দ্বিতীয় উপশ্রেণির সদস্য হল মৃত ব্যক্তির পূর্বপুরুষ যেমন- অপ্রকৃত দাদা, নানা, দাদি বা নানি বা তাঁর ঊর্ধ্বগামীরা। তৃতীয় উপশ্রেণির সদস্য হলো মৃত ব্যক্তির পিতামাতার বংশধর যেমন- সহোদর, বৈপিত্রেয় ভাইয়ের কন্যা বা তাদের সন্তানরা। সর্বশেষ শ্রেণির সদস্য হল মৃত ব্যক্তির নিকটবর্তী পিতামহ ও মাতামহের বংশধর যেমন- আপন চাচার কন্যা বা তাদের বংশধর, পিতার বৈমাত্রেয় ভাইয়ের কন্যা বা তাদের বংশধর।

লেখক : মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক।

Advertisement