কূটনীতিকদের নিয়ে বৈশাখ উদযাপন করল মালয়েশিয়া দূতাবাস

বড় পরিসরে পয়লা বৈশাখ উদযাপন করল মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।
স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে কুয়ালালামপুরের অভিজাত হোটেল রেনেসাঁয় বৈশাখ উদযাপন শুরু হয়।
এবারের আয়োজনের বিশেষত্ব ছিল বেশ কয়েকটি দেশের কূটনীতিকদের আগমন। অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করেছেন প্রকৌশলী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি শিশুরা বিদেশি কূটনীতিকদের স্বাগত জানাতে বাহারি রঙের ফুল ও ফুলের পাপড়ি ছিটাতে থাকে। শিশুদের পাশাপাশি বিদেশিদের অভ্যর্থনা জানাতে যোগ দেন কুয়ালালামপুর দূতাবাসের হাইকমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সাদা রঙের শাড়ি আর মাথায় বেলি ফুলের খোঁপা পরে মালয়েশিয়াপ্রবাসী নারীদের উৎসব ছিল চোখে পড়ার মতো। ছেলেরা পাজামা-পাঞ্জাবি পরে মনে করিয়ে দিল, দিনটা বাঙালির মিলনমেলার।
কুয়ালালামপুর দূতাবাসের কনস্যুলার (রাজনৈতিক) রইস হাসান সারোয়ার ও দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) তাহমিনা ইয়াসমিনের উপস্থাপনা আর হাইকমিশনার শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে শুরু হয় এক মনোজ্ঞ সাস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে শহীদুল ইসলাম মালয়েশিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশিদের বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ‘এটি বাঙালিদের একটি সর্বজনীন উৎসব। বিশ্বের সব প্রান্তের সকল বাঙালি এ দিনে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়; ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করে অতীত বছরের সব দুঃখ-গ্লানি। সবার কামনা থাকে যেন নতুন বছরটি সমৃদ্ধ ও সুখময় হয়। নতুন এই বছরে প্রবাসে আমরা যেন মিলেমিশে কাজ করতে পারি।’
তাঁর ওই বক্তব্যের পর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে ‘এসো হে বৈশাখ’, ‘সুন্দরী কমলা নাচে’, ‘লোকে বলে, বলে রে ঘরবাড়ি বালা না আমার’ গানগুলো স্মরণ করিয়ে দেয় বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে। ‘চার ছক্কা হই হই, বল গড়াইয়া গেল কই’ গানের সঙ্গে শিশুদের নৃত্য সবার মন কেড়ে নয়।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি কুয়ালালামপুর দূতাবাস আয়োজন করে বাংলাদেশি খাবারের। পিঠা-পায়েশ-সন্দেশ খেয়ে বিদেশিরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। এত সুন্দর অনুষ্ঠানে আসতে পেরে বিদেশিরা কুয়ালালামপুর দূতাবাসের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
কয়েকজন বিদেশি কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশিরা যে আসলে অতিথিপরায়ণ, সেটি এ অনুষ্ঠানে প্রমাণ পাওয়া গেল।
দূতাবাসের আয়োজনে অংশ নিতে সমবেত হন মালয়েশিয়ার শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান, ভেনেজুয়েলা, কিউবা, আফগানিস্তান, কোরিয়া, রাশিয়া ও ভারতের রাষ্ট্রদূতরা।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের ডেপুটি হাইকমিশনার মো. ফয়সাল আহমেদ, কাউন্সিলর (শ্রম) মো. সায়েদুল ইসলাম, ফার্স্ট সেক্রেটারি এস কে শাহীন, ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মুশাররাত জেবিন, ফার্স্ট সেক্রেটারি শাহিদা সুলতানা, কমার্শিয়াল উইং কর্মকর্তা ধনঞ্জয় কুমার দাস প্রমুখ।