গড়িমসি এড়াতে মানসিক কৌশল

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার শিক্ষিকা কেটি মিল্কম্যান। নিয়মিত ব্যায়ামাগারে (জিমে) যাওয়া প্রয়োজন তাঁর। তবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিরে নিজেকে তাঁর পরিশ্রান্ত মনে হতো। বাসায় ফিরেই তাঁর ইচ্ছে হতো কাউচে শুয়ে বই পড়তে অথবা টিভিতে প্রিয় অনুষ্ঠান দেখতে। এভাবেই গড়িমসি করে প্রয়োজনীয় কাজটি থেকে সরে থাকতেন কেটি।
হঠাৎ একদিন কেটির মাথায় বুদ্ধি খেলে গেল। আচ্ছা, কেমন হয় নিজের জন্যই নিয়ম করা হলে। নিয়মটি হবে তিনি উপন্যাসের বই বা টিভিতে প্রিয়া অনুষ্ঠানটি তখনই দেখতে পারবেন, যদি জিমে যান।
যেমন ভাবা তেমনি কাজ। কাজ শেষে বাড়ি ফিরেই জিমে যান কেটি। আর সেখান থেকে ফিরে অপর প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পন্ন করায় আগ্রহ বাড়ে। এভাবে গড়িমসি এড়িয়ে নিজের আগ্রহের ও প্রয়োজনীয় কাজের মধ্যে সমন্বয় করেন তিনি। কেটির ভাষায় এটি হলো ‘আগ্রহের বন্ধন’। পরবর্তীতে কেটি লক্ষ করেন, অত্যন্ত অনাগ্রহের অথচ প্রয়োজনীয় কাজটি তিনি বেশ আগ্রহের সঙ্গেই পালন করছেন। কারণ এর সঙ্গে পুরস্কার হিসেবে থাকছে তাঁর অতি আগ্রহের কাজ।
বিজনেস ইনসাইডারকে কেটি মিল্কম্যান বলেন, দীর্ঘ সময় একটি নির্দিষ্ট কাজ অব্যাহত রাখতে ‘আগ্রহের বন্ধন’ বেশ কাজ করে। আগ্রহের কাজটির সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাজটির সমন্বয় করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাজটিও সম্পন্ন হয় অতি আগ্রহে এবং এখানে কোনো গড়িমসি আসে না।
কেটি মিল্কম্যান নিজের জীবনে প্রয়োগ করা মানসিক কৌশলটি অপরদের ওপরও কাজ করে কি না, পরীক্ষা করে দেখতে চাইলেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি করলেন গবেষণার পরিকল্পনা। কেটির নেতৃত্বে ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার একদল গবেষক ২২৬ জন শিক্ষার্থী ও কর্মীর শরীরচর্চার করার প্রবণতা বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর ওই শিক্ষার্থী ও কর্মীদের আগ্রহের কাজের সঙ্গে শরীরচর্চার সমন্বয়ের বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এতে দেখা যায় তাদের মধ্যে শরীর চর্চার হার ২৯ থেকে ৫১ শতাংশ বেড়েছে। আর শুধু শরীর চর্চার ওপর গবেষণা হলেও সব ধরনের প্রয়োজনীয় ও আগ্রহের কাজের মধ্যে সমন্বয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। এ সংক্রান্ত গবেষণা নিবন্ধটি প্রকাশ করেছে বিজ্ঞান সাময়িকী ম্যানেজমেন্ট সায়েন্স।
আগ্রহ ও প্রয়োজনীয় কাজের মধ্যে সমন্বয় : একটি সাদা কাগজে দাগ কেটে দুই ভাগ করুন। একটি অংশ লিখতে হবে আগ্রহের কাজ ও এ থেকে যে উপকার বা আনন্দ পাওয়া যায়। অপর অংশে লিখতে হবে প্রয়োজনীয় কাজ এবং এ থেকে পাওয়া সুবিধা। সময় নিয়ে দুটি কলামেই প্রতিদিনের সব কর্মকাণ্ড লিখে ফেলতে হবে। পরে লিস্ট দুটির মধ্যে থেকে একটি আগ্রহের কাজের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাজের সমন্বয় ঘটাতে হবে।
আগ্রহ ও প্রয়োজনীয় কাজের সমন্বয়টি এভাবে হতে পারে।
অডিও, বই বা গান শোনা হবে শুধুমাত্র শরীরচর্চার সময়।
প্রয়োজনীয় ইমেইল দেখা শেষ হলে নখের সৌন্দর্যচর্চা করা যাবে।
টেলিভিশনে প্রিয় অনুষ্ঠানটি দেখার সময়ই বাড়ির কাজকর্ম বা কাপড় ইস্ত্রি করা ও সাজিয়ে রাখতে হবে।
মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন আলোচনার পর হবে প্রিয় রেস্টুরেন্টে খাওয়া।
উল্লিখিত উদাহরণগুলো অনুসরণ করে নিজের মতো করে আগ্রহ ও প্রয়োজনীয় কাজের সঙ্গে সমন্বয় ঘটানো হলে একদিকে যেমন সময় বাঁচে, তেমনি আনন্দের সঙ্গেই গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় কাজগুলো করা যায়। আর প্রয়োজনীয় কাজে গড়িমসিও দূর হয়।