Beta

ছুটির দিনে

৮০০ টাকায় দ্বিশত বছরের রথের মেলায়

১৪ জুলাই ২০১৮, ১৫:২৩

সুমন্ত গুপ্ত

প্রতিবছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে বাংলাদেশ, ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব সাড়ম্বরে পালন করে। এর এক সপ্তাহ পর উল্টোরথ উৎসব হয়ে থাকে। রথোপরি ডানে প্রভু জগন্নাথ, মাঝখানে তাঁর বোন সুভদ্রা এবং বামে বলভদ্র। অর্থাৎ কৃষ্ণ, সুভদ্রা ও বলরাম রথে আসীন থাকেন। ভক্তদের বিশ্বাস, রথোপরি আসীন দেবমূর্তি দর্শন ও রথ টেনে নেওয়ার সুযোগ তাদের জন্য দেবতার আশীর্বাদ লাভের সহায়ক। সিলেটে মণিপুরী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা দর্শনের। প্রায় ১৯৪ বছর ধরে চলে আসছে এই রথযাত্রা উৎসব। আপনি চাইলে ঘুরে আসতে পারেন এই রথ যাত্রার অনুষ্ঠানে।

উল্লেখ্য এবারের রথ যাত্রা অনুষ্ঠিত হবে ১৪ জুলাই এবং উল্টো রথ যাত্রা অনুষ্ঠিত হবে ২২ জুলাই। 

ইতিহাস

সনাতন ধর্মীয় গ্রন্থ পুরাণ থেকে রথ যাত্রার কথা জানা যায়। স্কন্দ পুরাণে আমরা পাই যে ইন্দ্রদ্যুম্ন নামে এক রাজা ছিলেন উত্কল রাজ্যে, বর্তমান উড়িষ্যা । তিনি একদিন স্বপ্নাদিষ্ট হন একটি মন্দির নির্মাণের জন্য। পরে দেবর্ষী নারদ এসে জানান স্বয়ং ব্রহ্মারও তাই ইচ্ছে, তিনি নিজে সেটা উদ্বোধন করবেন। নারদ রাজাকে বললেন আপনি বহ্মাকে নিমন্ত্রণ করুন। সেই উপদেশ মাথায় রেখে রাজা ব্রহ্মলোকে গেলেন এবং বহ্মাকে নিমন্ত্রণ করলেন। কিন্তু ব্রহ্মলোকের সময় এর সাথে তো পৃথিবীর মিল নেই, আর পৃথিবীতে তত দিনে কয়েকশ বছর পার হয়ে গেছে। ফিরে এসে রাজা দেখলেন তাকে কেউ চেনে না। যা হোক তিনি আবার সব কিছু নতুন করে করলেন। দৈবভাবে রাজা জানতে পারলেন সমুদ্রসৈকতে একটি নিম কাঠ ভেসে আসবে,  সেটা দিয়েই তৈরি হবে দেব বিগ্রহ। একজন কারিগর এলেন বিগ্রহ তৈরি করতে,  কিন্তু নির্মাতা শর্ত দিলেন তিনি নিভৃতে কাজ করবেন। আর বিগ্রহ তৈরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে বিরক্ত করা যাবে না এবং মন্দিরে যাওয়াও যাবে না। এদিকে মূর্তি তৈরি শুরুর কিছু দিন পর রাজা কৌতূহল সংবরণ করতে না পেরে মন্দিরে প্রবেশ করে দেখেন কেউ নেই সেখানে। আর আমরা যে রূপে এখন জগন্নাথ দেবকে দেখি, সেই মূর্তিটি শুধু রয়েছে। পরে ওই ভাবেই স্থাপিত হয় মূর্তি। ইন্দ্রদ্যুম্ন রাজা জগন্নাথ দেবের মূর্তিতেই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরবর্তীকালে শ্রীকৃষ্ণ এবং জগন্নাথ দেব একই সত্ত্বা চিন্তা করে একই আদলে তার পাশে ভাই বলরাম এবং আদরের বোন সুভদ্রার মূর্তি স্থাপন করা হয়। আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের পুরীতে তিন রথের যাত্রা হয়,  প্রথমে বলরাম তার পর সুভদ্রা এবং শেষে জগন্নাথ। ১১৯৯ খ্রিস্টাব্দে রাজা অনঙ্গভীমদেব তিনরথের রথ যাত্রা প্রচলন করেন।

যা দেখবেন

সিলেট শহরের জিন্দাবাজার পেরিয়ে চৌহাট্টায় পৌঁছার পর সড়কে পাশে রথের মেলা দেখতে পাবেন । মেলাকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে পুরো এলাকা। ছোট দোকানগুলোতে ছোট থেকে বড় সব শ্রেণির মানুষের ভিড়। মাটির খেলনা, লেইস ফিতা, আসবাবপত্র , নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, কাঠের সামগ্রী, হস্ত শিল্প, কারু পণ্য, তামা, কাঁসা, লোহা কি নেই মেলায়। রিকাবী বাজার মূল অনুষ্ঠানস্থলে গেলে দেখতে পাবেন সেই কাঙ্ক্ষিত রথের যেখানে আসীন আছেন প্রভু জগন্নাথ, মাঝখানে তাঁর বোন সুভদ্রা এবং বামে বলরাম। শত শত পূর্ণাথী রথ টেনে নিয়ে যাচ্ছে। একটি মাঠের ভেতর অনেকগুলো রথ । রথগুলো কাঠের তৈরি ,  মাটির থেকে উচ্চতা প্রায় ২০-২৫ ফিটের মতো হবে। প্রতিটি রথ খুব সুন্দর করে সাজানো। রথের চাকাগুলোও কোনোটি কাঠের আবার কোনোটি সিমেন্টের। চারপাশে ধূপ কাঠির মোহনীয় গন্ধ শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, ঢাক বেজেই চলছে।

যেভাবে যাবেন

ঢাকার সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল, রাজারবাগ ও মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রিনলাইন, শ্যামলী, এনা, হানিফ বা বিআরটিসি বাসে অথবা ট্রেনে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সকালে আন্তনগর পারাবাত, দুপুরে জয়ন্তিকা ও কালনী এবং রাতে উপবন সিলেটের পথে ছোটে। ভাড়া ৩৬০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে । সেখান থেকে রিকাবী বাজার রথের মেলায়  যেতে ভাড়া নেবে ৬০ টাকা, সিএনজি অটোরিকশা  ভাড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement