Beta

ছুটির দিনে

চলুন যাই জগন্নাথ ভোজনালয়ে

২৪ জুলাই ২০১৮, ১১:২৮

মো. সাইফুল ইসলাম

কয়েকটা টেবিল, তার চারপাশে চেয়ার। কিন্তু যে ব্যাপারটা সবচেয়ে চোখে পড়বে সেটা হলো টেবিলের ওপরের বাটির সংখ্যা। ছোট ছোট অসংখ্য বাটি সাজানো টেবিলের ওপরে। বলছি জগন্নাথ ভোজনালয়ের কথা। এ রকম ছোট ছোট বাটিতেই পরিবেশন করা হয় হরেক পদের নিরামিষ তরকারি। আর সঙ্গে স্টিলের থালে ধোঁয়া ওঠা সাদা ভাত।

কোথায় অবস্থিত?

পুরান ঢাকায় কাবাব-বিরিয়ানির ভিড়ে কয়েকটি নিরামিষ রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে তাঁতীবাজার এলাকায় আছে পাঁচটি। এর মধ্যে জগন্নাথ ভোজনালয় অন্যতম। তাঁতীবাজার শিবমন্দির থেকে ডান দিকে একটু এগোলোই সামনে পড়বে রেস্তোরাঁটি। ওপরে দুই তলায় ছোট্ট একটা সাইনবোর্ড। রেস্তোরাঁর সাজসজ্জা সাধারণ, তবে বেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। ছয় বছর ধরে এ হোটেলটি চলছে। সপরিবারে খাওয়ার উপযোগী। টেবিলে ছোট ছোট বাটিতে সব ব্যঞ্জন সাজানো। ছানা, ডাল, শাক, আমড়ার টক, টক দইসহ নানা মুখরোচক খাবার থেকে পছন্দমতো বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকছে। ‘জগন্নাথ ভোজনালয়’ বেশ ঘরোয়া পরিবেশ রেখেছে।

কীভাবে যাবেন?

এখানে আসতে আপনাকে প্রথম আসতে হবে তাঁতীবাজার শিবমন্দির। ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে আপনি আসতে পারবেন বাস বা লেগুনায় করে। নামতে হবে নয়াবাজার বাস স্টপ বা বঙ্গবাজার । সেখান থেকে রিকশা নিয়ে যেতে হবে তাঁতীবাজার শিবমন্দির। ওখানে কাউকে জিজ্ঞস করলেই দেখিয়ে দিবে রেস্তোরাঁটি।

খাওয়ার আইটেম এবং দাম

এখানে আপনি পাবেন হরেক রকমের আইটেম। লিস্ট থেকে বেছে নিয়ে অর্ডার করতে হবে পছন্দমতো। এখানকার প্রতিটি আইটেমই সুস্বাদু আর দামটাও অনেক কম। এর পরিচালক নিতাই পাল বলেন, ‘আমাদের এখানে হিন্দু, মুসলমান থেকে শুরু করে সব ধরনের কাস্টমারই আসে। স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা সকাল-দুপুরের খাবার খেতে আসেন। কেউ কেউ রাতের খাবারও খান। কেনাকাটা করতে আসা মানুষজনও নিরামিষ খেতে ভালোবাসেন। সে জন্য এখন ভিড়টাও একটু বেশি।’ নিতাই বলেন, এখানে খাবার সাশ্রয়ী। নিরামিষ খাবার স্বাস্থ্যকরও। যে কেউ নিশ্চিন্তে আসতে পারেন, খেতে পারেন। খরচ বেশি পড়ে না। তাই খাবারের বাড়তি দামও রাখার প্রয়োজন হয় না। ‘অনেকেই খেয়ে আবার পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য পার্সেল নিয়ে যান,’ বলেন নিতাই পাল।

নিরামিষভোজীর সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। শুধু ধর্মীয় দিকে নয়, এখন অনেকেই শারীরিক সুস্থতার কথা ভেবে নিরামিষ খাবার পছন্দ করছেন। ডাক্তাররা তেল-ঝোল, চর্বিজাতীয় খাবার সীমিত খেতে বলেন। নিরামিষের পরামর্শ দেন। এতে রোগবালাই কম হয়, স্নায়ু সতেজ থাকে, অতিরিক্ত মেদ জমে না শরীরে, ত্বক ও চুলের ক্ষতি কমে। স্বাস্থ্যসচেতন তরুণরাও এখানে নিয়মিত খেতে আসেন বলেও জানান তাঁরা। এই তেল-চর্বির ভিড়ে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন এখান থেকে। পেতে পারেন একটু ভিন্নধর্মী স্বাদ।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement