কাবুল হোটেলে হামলায় তালেবানের দায় স্বীকার

Looks like you've blocked notifications!

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী তালেবান। দেশটির আরো দুটি প্রদেশে হামলার ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে তারা।

আফগান সরকার জানিয়েছে, হামলার প্রায় ১২ ঘণ্টা পর জিম্মিদশার অবসান হয়। এর মধ্যে তিন হামলাকারী নিহত হন। দুজন শনিবার রাতে এবং তৃতীয়জন আজ রোববার সকালে নিহত হন।

বন্দুকধারী হামলাকারীরা একজন বিদেশিসহ অন্তত ছয়জনকে হত্যা করে। এ ঘটনায় আরো অন্তত ছয়জন আহত হন।

হামলাকারী দলটি গতকাল শনিবার রাতে হোটেলটিতে আঘাত হানে, বাসিন্দাদের জিম্মি করে রাখে এবং সারারাত ধরে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে যুদ্ধ করে। আজ সকাল থেকে ভবনটি থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এরপর ভবনের কাছাকাছি আফগান পুলিশের ভারি অস্ত্রসজ্জিত কতগুলো গাড়ির বহর দেখা যায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাজিব দানিশ জানান, দেড় শতাধিক মানুষকে হোটেল থেকে উদ্ধার করা হয়। এদের ৪১ জন বিদেশি নাগরিকও ছিলেন। নিরাপত্তারক্ষীরা প্রতিটি কক্ষে ঘুরে ঘুরে দেখেন।

হোটেলটির ব্যবস্থাপক আহমাদ হারিস নায়েব অক্ষত অবস্থায় পালাতে পেরেছিলেন। তিনি জানান, হোটেলে ছড়িয়ে পড়ার আগে একটি রান্নাঘরের মধ্য দিয়ে মূল ভবনে প্রবেশ করেন হামলাকারীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হামলাকারীরা হোটেলের কর্মী ও অতিথিদের জিম্মি করে রেখেছিল। টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, ওপরতলার মানুষগুলো জানালা দিয়ে লুকানোর চেষ্টা করছে।

কাবুলের সরকারি অন্যান্য ভবনের মতো এই হোটেলটিও পাহাড়ে চূড়ায়।  ১৯৬০ সালে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ভবনটি ২০১১ সালেও তালেবান যোদ্ধার হামলার শিকার হয়।

কাবুল শহরে দুটি বিলাসবহুল হোটেলের মধ্যে এটি একটি। আজ এখানে তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক একটি সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা আহমেদ ওয়াহিদ জানান, হামলার সময় শতাধিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপক ও প্রকৌশলী এ সময় ভবনটির আশপাশেই অবস্থান করছিলেন।

২০১৪ সালের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রশক্তি আফগানিস্তান তাদের অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করে।

দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় ফারাহ প্রদেশের পুলিশ প্রধান জেনারেল মাহরুফ ফলাদ জানান, সকালে রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা একটি বোমা বিস্ফোরণে রাজ্যটির উপপুলিশপ্রধান নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন চারজন। প্রদেশের উপপুলিশ প্রধান আব্দুল রাজেক কাদেরী জানান, শনিবার  বালখ রাজ্যের এক বাড়িতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। সেখানে সরকারপন্থী বাহিনীর সদস্যরা জড়ো হয়েছিল। এতে অন্তত ১৮ নিহত হন। তালেবান এই দুটি হামলারও দায় স্বীকার করেছে।