ট্রাম্পের শুল্ক বৃদ্ধিতে মার্কিন শেয়ারবাজারে ২০২০ সালের পর সবচেয়ে বড় পতন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে বড় ধস নেমেছে। এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ট্রাম্পের ঘোষণার পর আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল) এশিয়ার শেয়ারবাজারেও ব্যাপক পতন দেখা যায়। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ১.৮ শতাংশ কমে যায়, দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ১ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০ সূচক ১.৪ শতাংশ কমে যায়।
এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ৪.৮ শতাংশ কমে দুই ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য হারায়, যা ২০২০ সালের কোভিড সংকটের পর সবচেয়ে বড় পতন এটি। একইদিন ডাও জোন্স সূচক ৪ শতাংশ কমে এবং নাসডাক প্রায় ৬ শতাংশ পড়ে যায়।
চীন-ইইউর পাল্টা জবাব
ট্রাম্পের ঘোষিত শুল্ক পরিকল্পনার আওতায় চীনকে ৫৪ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়তে হবে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ২০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। এই ঘোষণার পর চীন ও ইউরোপ পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বৃহস্পতিবার জানান, তাদের দেশও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে।
বাজারে অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) ট্রাম্পের শুল্ক নীতির সমালোচনা করে জানিয়েছে, এর ফলে চলতি বছরে বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রায় ১ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে।
অন্যদিকে, বিনিয়োগকারী ও বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, নতুন শুল্ক নীতির ফলে বাজারে অস্থিরতা বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত হতে পারে।
বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ড ছুঁয়ে ৩১৬৭.৫৭ ডলার প্রতি আউন্সে পৌঁছে যায়, যদিও পরে কিছুটা কমে। ডলারের মানও বেশ কিছু মুদ্রার বিপরীতে দুর্বল হয়ে পড়ে।
শিল্প ও কর্পোরেট জগতে ব্যাপক প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ভয়াবহ পতন ঘটেছে। নাইকি, যা এশিয়ায় ব্যাপক উৎপাদন করে, তাদের শেয়ার ১৪ শতাংশ কমে গেছে। চীন ও তাইওয়ানের ওপর নির্ভরশীল অ্যাপল ৯ শতাংশ পড়ে গেছে। খুচরা বিক্রেতা টার্গেট প্রায় ১০ শতাংশ নিচে নেমেছে। ইউরোপীয় বাজারে অ্যাডিডাসের শেয়ার ১০ শতাংশ এবং প্রতিদ্বন্দ্বী পুমার শেয়ার ৯ শতাংশ কমেছে।

অন্যদিকে, ইউরোপীয় বিলাসবহুল পণ্য নির্মাতা এলভিএমএইচ (লুই ভিটন মোয়েট হেনেসি) ৩ শতাংশ শেয়ার হারিয়েছে।
ট্রাম্পের অবস্থান
শেয়ারবাজারের ধস সত্ত্বেও হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেছেন, ‘আমার পরিকল্পনা সফল হচ্ছে। বাজার, দেশ এবং শেয়ার সবই আবার দ্রুত উন্নতি করবে।’
তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শুল্কের ফলে বাজারে চাপে পড়বে সাধারণ ভোক্তারা। বিশ্লেষক সীমা শাহ সতর্ক করে বলেন, ‘ট্রাম্পের লক্ষ্য যদি উৎপাদন শিল্পকে ঘরে ফেরানো হয়, তবে সেটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া হবে—যদি আদৌ সম্ভব হয়। কিন্তু ততদিনে শুল্কের প্রভাব অর্থনীতিতে নেতিবাচক ধাক্কা দেবে।’