ফেসবুকে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করায় রাবি ছাত্র আজীবন বহিষ্কার

ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে নিজ বিভাগের ছাত্রীদের কুরুচিকর বার্তা পাঠিয়ে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৪৮০ তম সিন্ডিকেট সভায় স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক আব্দুল আলিম এনটিভি অনলাইনকে নিশ্চিত করেছেন।
বহিষ্কৃত নাজমুল হাসান চৌধুরী শিশির বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক আব্দুল আলিম জানান, বহিষ্কৃত ছাত্র শিশিরের বিরুদ্ধে ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে নিজ বিভাগের সহপাঠী ও সিনিয়রসহ একাধিক ছাত্রীকে অশালীন ও কুরুচিকর মেসেজ পাঠিয়ে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ এনে তাঁর বিরুদ্ধে গত ২৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কমিটির কাছে আইন বিভাগের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। কমিটি বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দেয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁর ছাত্রত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আইন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকে ‘মৃন্ময় আয়ান’ নামের একটি ভুয়া আইডি থেকে আইন বিভাগের ছাত্রীদের খারাপ মেসেজ, ভিডিও ও লেখা পাঠানো হতো। গত ২০ মার্চ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বহিষ্কৃত শিশিরকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা মামলা না করায় পরের দিন মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় তাঁকে।
এরপর গত ২৫ মার্চ আবার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ছাত্র উপদেষ্টা, আইন অনুষদের ডিন ও বিভাগের সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। ২৭ মার্চ বিভাগের একাডেমিক কমিটির সভা শেষে বিভাগের পক্ষ থেকে ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ সেলে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। শিক্ষার্থী ও বিভাগের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌসকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নাজমুল হাসান চৌধুরী শিশিরকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।