Beta

র‌্যাগিংয়ের পরিবর্তে রাখি পরাবে জাবি শিক্ষার্থীরা

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৪৬

জাবি সংবাদদাতা

উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে থাকে। নতুন ভর্তি হওয়া প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ‘র‌্যাগ’ নামক এক অত্যাচারের ভয়ে থাকে। আতঙ্কে কাটে তাদের প্রতিটি মুহূর্ত। দেশের প্রায় সবকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগ নামক এই নির্যাতনের মাত্রা দিনকে দিন বেড়েই চলছে।

দেশের প্রায় অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-১৯ সেশনের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হয়েছে। ফলে প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়েই র‌্যাগিং নামক অপসংস্কৃতি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। সম্প্রতি গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই শিক্ষার্থীকে র‌্যাগিংয়ের দায়ে ছয় শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে মামলাও করা হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া অনেক নতুন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক ক্লাস শুরুর আগেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস এখনো শুরু হয়নি। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি ক্লাস শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে র‌্যাগিংয়ের প্রবণতা। কিন্তু এই প্রবণতার বিপরীতে গিয়ে যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৪৭ আবর্তনের শিক্ষার্থীরা। র‌্যাগিং নয়, রাখিবন্ধনের মাধ্যমে নবীনদের বরণ করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।

বৃহস্পতিবার প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের নোটিশ বোর্ডে এ সংক্রান্ত একটি ঘোষণা দেয় তারা। রাখিবন্ধনের আমেজে মুছে যাক র‌্যাগিং শীর্ষক নোটিশে বলা হয়েছে, ‘প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৪৮ আবর্তনের সকল শিক্ষার্থীর অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আগামী ২৪-২-২০১৯ তারিখ রবিবার ৪৭ আবর্তনের শিক্ষার্থীরা র‍্যাগিং-এর বিকল্প রাখিবন্ধন উৎসবের আয়োজন করেছেন। ৪৭ আবর্তনের শিক্ষার্থীসহ সকল আবর্তনের শিক্ষার্থীকে যথাসময়ে বিভাগে উপস্থিত হয়ে এই আনন্দঘন উৎসবকে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। কেবল সাদা মনের সাহসী শিক্ষার্থীরাই এই উৎসবে আমন্ত্রিত।’

এ ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৪৭ আবর্তনের শিক্ষার্থী মাহিদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিনে আমরা যখন র‌্যাগিং নামক অপসংস্কৃতির শিকার হয়েছিলাম তখনই এ অপসংস্কৃতিকে ভাঙ্গার প্রতিজ্ঞা করেছিলাম। পরবর্তীতে বিভাগের বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেই। প্রথম বর্ষে আমরা যে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলাম আমাদের ছোট ভাইবোনদের যেন এই নির্যাতনের শিকার হতে না হয়- এজন্য এই উদ্যোগ নেই। আমরা আমাদের অন্য বিভাগের বন্ধুদের কাছেও এই আহ্বান পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

এ ব্যাপারে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘র‌্যাগিংয়ের কারণে নবীন শিক্ষার্থীরা এক ধরনের আতঙ্ক ও মানসিক অস্থিরতার মধ্যে থাকে। র‌্যাগিং প্রথার বিলোপ সাধনে শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগকে আমি আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই।’

Advertisement