জাবির প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদকর্মীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীনের বিরুদ্ধে এক নারী সংবাদকর্মীকে উত্ত্যক্ত করা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর বরাবর এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন বাংলাভিশনের ওই সংবাদপাঠিকা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তিনি ও তাঁর স্বামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বেড়াতে আসেন। একপর্যায়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের জয় বাংলা ফটকের পাশে একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আচার খাচ্ছিলেন। এ সময় প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ সেখানে যান। তারা ওই উপস্থাপিকাকে উদ্দেশ করে অশ্লীল মন্তব্য করতে থাকেন। উপস্থাপিকার স্বামী তাদের পরিচয় জানতে চাইলে সুদীপ্ত শাহীন নিজেকে পাটকলের শ্রমিক বলে দাবি করেন। সুদীপ্ত শাহীন তাদের পরিচয় জানতে চাইলে ওই উপস্থাপিকা নিজেকে সংবাদকর্মী এবং নিজেদের ‘নিরাপত্তার স্বার্থে’ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আত্মীয় বলে পরিচয় দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সুদীপ্ত শাহীন তাদের গালিগালাজ করতে শুরু করেন। এরপর সুদীপ্ত শাহীন তাদের জোর করে আড়ালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে আপত্তি জানালে সুদীপ্ত শাহীনসহ তিনজন ওই উপস্থাপিকার স্বামীর মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তাদের এক মিনিটের মধ্যে ক্যাম্পাস ছাড়ার নির্দেশ দেন সুদীপ্ত শাহীন। অন্যথায় তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে ওই সংবাদপাঠিকা এ ঘটনার বিচার ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ না করার প্রতিশ্রুতিমূলক লিখিত মুচলেকা দাবি করেন।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে সুদীপ্ত শাহীন এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘সেদিন (শুক্রবার) আমার ছুটি ছিল। জয় বাংলা ফটকের পাশের দোকান থেকে কেনাকাটা করে ফেরার পথে একটা দোকান থেকে পেয়ারা কিনে খাচ্ছিলাম। হঠাৎ একজন লোক এসে আমাদের পরিচয় জানতে চান। আমরা পরিচয় দিয়ে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের একজন ব্রিগেডিয়ারের ভাই হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীর কথা কাটাকাটি হয়েছে। এর বেশি কিছু না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে দুই পক্ষের কথা শুনেছি। তাদের মধ্যে মিটমাট করে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী বলেছেন, তার আর কোনো দাবি নেই, তিনি সন্তুষ্ট।’