সেই ছাত্রলীগ নেত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদবঞ্চিত হয়ে আন্দোলন করে বহিষ্কার হওয়া সংগঠনটির বিগত কমিটির সদস্য জারিন দিয়া আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। গতকাল সোমবার রাতে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
জারিন দিয়া অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে তাঁর বন্ধু ও একাধিক ছাত্রলীগ নেতা নিশ্চিত করেছেন।
ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় গতকাল সংগঠন থেকে একজনকে স্থায়ীভাবে ও চারজনকে সাময়িক বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এর মধ্যে জারিন দিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির কর্মসূচি ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন বলেন, ‘গতকাল রাত সাড়ে ৯টা বা ১০টার দিকে আমাদের সঙ্গে জারিনের শেষ কথা হয়। পরে তাঁর মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, জারিন বাসা থেকে বেরিয়ে গেছেন। পরে ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারলাম, তিনি অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ খেয়েছেন। তাঁকে আমরা খুঁজতে থাকি। পরে পুলিশের সহায়তায় নম্বর ট্র্যাকিং করে তাঁকে ল্যাবএইড এলাকা থেকে উদ্ধার করে ল্যাবএইড হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ দুপুর ১টার দিকে জারিন দিয়াকে হাসপাতাল থেকে বাসায় নেওয়া হয়েছে। জ্ঞান ফিরলেও এই মুহূর্তে কথা বলার অবস্থায় তিনি নেই।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বরত পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জারিন দিয়া নামের এক ছাত্রীকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন। পরে তাঁর পাকস্থলী পরিষ্কার করে ৫০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। দুপুরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর পদবঞ্চিতদের ওপর মধুর ক্যান্টিনে হামলা ঘটনায় বেশ কয়েকজন নারী নেত্রী আহত হয়েছিলেন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত হন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সদস্য জারিন দিয়া। তাঁর কোমরের হাড় ভেঙে যায়।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জারিন দিয়া লিখেন, ‘মধুর ক্যান্টিনে সেদিনের মারামারিতে কোমরে ভীষণভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হই। দিনে দিনে কোমরের হাড়টি ফুলে যায়। গতকাল (বুধবার) আলট্রাসনো এবং এক্স-রেতে ধরা পড়ে কোমরের পাঁজরের হাড়টি ফ্র্যাকচার হয়ে গেছে। ডাক্তার আমাকে টোটালি বেডরেস্ট দিয়েছে। আমার বাবা-মা ফ্যামিলির সবাই খুব চিন্তিত হয়ে পড়েছে। তারা আমাকে বাড়িতে নিয়ে চলে এসেছে। আপনারা সকলেই আমার জন্য দোয়া করবেন।’
জারিন দিয়া বলেন, ‘ভালোবাসার সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে হয়তো অনেক বেশিই ভালোবেসে ফেলেছি। আমি খুব সাধারণ একজন কর্মী। কারোর সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না কোনো দিন। একটা স্ট্যাটাসের মাধ্যমে হয়তো আজ অনেক আলোচনা-সমালোচনার মুখোমুখি পড়েছি। পদ থেকে বঞ্চিত হয়েছি বলেই স্ট্যাটাসটা দেই নাই। আসলে জমে থাকা কষ্টগুলো ভেতরে আর রাখতে পারিনি। সত্যি অনেক পরিশ্রম করেছিলাম।’
তথ্যমতে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলনের এক বছর পর গত ১৩ মে ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে সংগঠনের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা তাদের ওপর হামলা চালান। এতে কয়েকজন নারী নেত্রীসহ ১০-১২ জন আহত হন। সেই ঘটনা তদন্তে ১৪ মে তিন সদস্যের কমিটি করে ছাত্রলীগ। কমিটিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। সেই কমিটি গত শনিবার রাতে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গতকাল জারিনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।