দেখিয়ে দিল ইংল্যান্ড

কিছুদিন পরেই ইংল্যান্ডে শুরু হবে ক্রিকেট বিশ্বকাপ। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের প্রায় সবাই একবাক্যে এবারের আসরের হট ফেভারিট হিসেবে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের নামটাই বলছে। শুধু স্বাগতিক হওয়ার কারণেই নয়, ওয়ানডে ক্রিকেটে গত দুই বছরের দুর্দান্ত ফর্মই ইংলিশদের ফেভারিটের আসনে বসিয়েছে। মঙ্গলবার ব্রিস্টলে সেটা হাতেনাতে প্রমাণ করে দিয়েছে ইংলিশরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে রানের পাহাড় টপকে অনায়াস জয় পেয়েছে এউইন মরগ্যানের দল। প্রথমে ব্যাট করে ৩৫৮ রানের পর্বতসম স্কোর করে পাকিস্তান। জবাবে ৩১ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটের দুর্দান্ত জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এটা পঞ্চম সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড।
ব্রিস্টলের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। ইনিংসের প্রথম পাঁচ ওভারের মধ্যেই আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ফখর জামান ও বাবর আজমের মূল্যবান উইকেট দুটি নিয়ে পাকিস্তানকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন ইংলিশ পেসার ক্রিস ওকস। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে দারুণ পাল্টা আক্রমণ করে ১১.৫ ওভারে ৬৮ রানের জুটি গড়েন ওপেনার ইমাম-উল হক এবং হারিস সোহেল। অলস ভঙ্গিতে এক রান নিতে গিয়ে ৪১ রান করা হারিস আউট হওয়ার পর অধিনায়ক সরফরাজকে নিয়ে ৬৭ রানের আরেকটি ভালো জুটি গড়েন ইমাম।
তবে ব্যক্তিগত ২৭ রানে লিয়াম প্লাংকেটকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হন সরফরাজ। এরপর আসিফ আলির সঙ্গে মাত্র ১৫ ওভারে ১২৫ রানের জুটি গড়েন ইমাম-উল হক। এই জুটি গড়ার পথেই ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন বাঁহাতি ওপেনার ইমাম। পরপর দুই ম্যাচে অর্ধশতক তুলে নেওয়া আসিফ আলি ৫২ রান করে দলীয় ২৮৭ রানে আউট হন। এরপর পাকিস্তানের ইনিংসটাকে টেনে নেন ইমাম একাই। শেষ পর্যন্ত ১৩১ বল খেলে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ১৫১ রান করে আউট হন তিনি। বাঁহাতি ইমাদ ওয়াসিমের ১২ বলে ২২ এবং হাসান আলির ৯ বলে ১৮ রানের দুটি ইনিংসের ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩৫৮ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে পাকিস্তান।
জবাবে শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে ছিল দুই ইংলিশ ওপেনার জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টো। হাসান আলির করা সপ্তম ওভারের প্রথম বলেই মিডঅফে লোপ্পা ক্যাচ তুলে দেন জেসন রয়। অবিশ্বাস্যভাবে সেই ক্যাচ ছেড়ে দেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। এর পর থেকেই চড়াও হয়ে খেলতে থাকে ইংলিশরা। মাত্র ১৭.৩ ওভারে ১৫৯ রান তুলে বিচ্ছিন্ন হয় ওপেনিং জুটি। আউট হওয়ার আগে ৫৫ বলে আট চার ও চারটি ছক্কায় ৭৬ রানের মারকুটে ইনিংস খেলেন রয়। তবে অন্যপ্রান্তে ব্যাটকে তরবারির মতো চালাচ্ছিলেন বেয়ারস্টো। পেসার জুনায়েদ খানের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৯৩ বলে ১৫টি চার ও পাঁচটি ছক্কায় সাজানো ১২৮ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন এই ডানহাতি ওপেনার।
দুই ওপেনারের গড়ে যাওয়া ভিতের পর জো রুটের ৪৩, বেন স্টোকসের ৩৭ ও মইন আলির অপরাজিত ৪৬ রানে ভর করে মাত্র চার উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। ম্যাচের তখনো ৫.১ ওভার বাকি। ইংলিশদের ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ের সামনে পাকিস্তানের কোনো বোলারই পাত্তা পাননি। অসাধারণ এক ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন জনি বেয়ারস্টো।
পাঁচ ম্যাচ সিরিজে এখন ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে ইংল্যান্ড। আগামী ১৭ মে শুক্রবার সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে আবার মুখোমুখি হবে দুই দল।