Beta

আমাজনে ভয়াবহ দাবানল

আগুনে পুড়ে যাচ্ছে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’

২৩ আগস্ট ২০১৯, ১৪:০৩ | আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০১৯, ১৪:০৯

অনলাইন ডেস্ক

আগের চেয়ে আরো দ্রুতগতিতে দাবানলে পুড়ছে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’খ্যাত আমাজন জঙ্গল। ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্চ (ইনপে) বলছে, এ বছরের প্রথম আট মাসে আমাজনে ৭৫ হাজারের বেশি দাবানলের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহেই ১০ হাজারটি আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের তুলনায় দাবানলের সংখ্যা বেড়েছে ৮৫ শতাংশ। গত বছর প্রায় ৪০ হাজারটি দাবানলের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এ অবস্থা চলতে থাকলে জলবায়ু পরিবর্তনবিরোধী লড়াইয়ে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে।

স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা যায়, আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি যে কোথাও কোথাও ধোঁয়া দুই হাজার ৭০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে থাকা অক্সিজেনের ২০ শতাংশেরই উৎস বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেইনফরেস্ট আমাজন। আমাজন জঙ্গল বিপুল পরিমাণ কার্বন জমা রেখে বৈশ্বিক উষ্ণতার গতিকে খানিকটা শ্লথ রেখেছে। আর সেই বনাঞ্চল এভাবে পুড়ে ছাই হতে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন পরিবেশবাদীরা। আমাজনের এই দুর্দশার জন্য ব্রাজিল সরকারকে দুষছেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, ব্রাজিলের কট্টর ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট বোলসোনেরো বনটি উজাড়ে উৎসাহ দিচ্ছেন। এমনকি অভিযোগের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

কিন্তু ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট উল্টো বলছেন, তহবিল বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ার কারণে এনজিওগুলো ক্ষুব্ধ হয়ে এ আগুন দিচ্ছে। তবে এ কথার পক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি।

তবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, আমাজনে রেকর্ডসংখ্যক অগ্নিকাণ্ড শুধু ব্রাজিল নয়, সারা বিশ্বের সমস্যা। প্যারিসে জি-সেভেন সম্মেলনে আমাজনের দাবানল প্রধান আলোচ্য বিষয় হওয়া উচিত বলে মত দিয়েছেন ম্যাক্রোঁ।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ব্রাজিলে চলমান দাবানল প্রচণ্ডের উদ্বেগের বিষয়। বনাঞ্চল আমাদের ফুসফুস ও বাঁচিয়ে রাখার জীবনীশক্তি।’

চলতি সপ্তাহে মহাকাশবিষয়ক গবেষণা সংস্থা নাসা, রাজনীতিবিদ ও তারকারা আমাজনের দাবানলের ছবি শেয়ার করার পর থেকে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ‘হ্যাশট্যাগ প্রে ফর আমাজন’ আহ্বান। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ইনস্টাগ্রামে নিজের সাড়ে তিন কোটির কাছাকাছি ফলোয়ারদের পরিবেশ নিয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও লিখেছেন, ‘আগুনে পুড়ছে ধরণির ফুসফুস।’

আমাজনের দুর্দশায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, অক্সিজেনের এ উৎসের ক্ষতি বিশ্ব বহন করতে পারবে না।

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এ অবস্থা চলতে থাকলে জলবায়ু পরিবর্তনবিরোধী লড়াইয়ে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে। আমাজনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংস হলে বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনে প্রচণ্ড প্রভাব পড়তে পারে। ব্রাজিলের আমাজোনাস, রন্ডোনিয়া, পারা ও মাতো গ্রোসো এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। রেইনফরেস্ট অঞ্চল হওয়ায় বছরের বেশিরভাগ সময় আমাজনে আর্দ্রতা বজায় থাকে। তবে জুলাই-আগস্ট মাসে আমাজনের আবহাওয়া কিছুটা শুষ্ক হয়ে ওঠে। তবে স্থানীয় পরিবেশবিদদের ধারণা, এই আগুন প্রাকৃতিক দাবানল নয়, বরং আমাজনের এই আগুনের পেছনে রয়েছে মানুষের ষড়যন্ত্র। চাষ ও বসবাসের জমি পাওয়ার জন্য স্থানীয় লোকজন জঙ্গলের গাছ কাটা ও আগুন ধরানো শুরু করেছেন বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

Advertisement