Beta

‘পৃথিবীর ফুসফুস’ সুরক্ষায় চুক্তিবদ্ধ ৭ দেশ

০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:০৭

অনলাইন ডেস্ক
আমাজন সুরক্ষায় কলম্বিয়ার লেটিসিয়া শহরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে দক্ষিণ আমেরিকার সাতটি দেশ। ছবি : রয়টার্স

পৃথিবীর বৃহত্তম ট্রপিক্যাল বনাঞ্চল আমাজন রক্ষায় একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে দক্ষিণ আমেরিকার সাতটি দেশ। আমাজনে ভয়াবহ দাবানলের ঘটনায় বৈশ্বিক উদ্বেগের মধ্যেই এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো।

এই সাতটি দেশ হলো—ব্রাজিল, বলিভিয়া, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, গুয়ানা, পেরু ও সুরিনাম। এই চুক্তির আওতায় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আমাজনের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।

কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে স্বাক্ষরিত এ চুক্তিতে আমাজনের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুনর্বনায়নের বিষয়ে কাজ করতেও সম্মত হয় দেশগুলো।

এ বছর আমাজন রেইনফরেস্টে ৮০ হাজারের বেশিবার দাবানল লাগার ঘটনা ঘটেছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

কলম্বিয়ার লেটিসিয়া শহরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইভান ডুকে বলেন, ‘আমাজন নামের সম্পদ যে দেশগুলোর অংশ, এ বৈঠক সেসব দেশের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করবে।’

এ ছাড়া পেরুর প্রেসিডেন্ট মার্টিন ভিজকারা বলেন, ‘(আমাজনের) মঙ্গল কামনা করা আর যথেষ্ট নয়।’

আমাজনে দুর্যোগ মোকাবিলায় সেখানে বসবাসকারী আদিবাসী জনগোষ্ঠিদের ভূমিকা বাড়ানো ও তাঁদের শিক্ষাদানে আরো প্রচেষ্টার বিষয়েও একমত হয় সাতটি দেশ।

সাত দেশের প্রেসিডেন্ট ছাড়াও সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন দেশগুলোর ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রীরা।

তবে শারীরিক অসুবিধার কারণে সম্মেলনে যাননি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো। ভিডিওলিঙ্কের মাধ্যমে তিনি সম্মেলনে অংশ নেন।  

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে থাকা অক্সিজেনের ২০ শতাংশেরই উৎস আমাজন। বিশ্বের বৃহত্তম এই রেইনফরেস্ট বিপুল পরিমাণ কার্বন জমা রেখে বৈশ্বিক উষ্ণতার গতিকে খানিকটা শ্লথ রেখেছে। যে কারণে আমাজনের আরেক নাম ‘পৃথিবীর ফুসফুস’। আমাজনের ৬০ শতাংশই ব্রাজিলে।

ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্চ (ইনপে) জানিয়েছিল, এ বছরের প্রথম আট মাসে আমাজনে ৭৫ হাজারের বেশি দাবানলের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে আগস্টের এক সপ্তাহেই ১০ হাজারটি আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের তুলনায় দাবানলের সংখ্যা বেড়েছে ৮৫ শতাংশ। গত বছর প্রায় ৪০ হাজারটি দাবানলের ঘটনা রেকর্ড করা হয়। এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

Advertisement