Beta

প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে তাড়ানো হবে : আসামে অমিত শাহ

০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৩:১৬ | আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৪:৫৮

অনলাইন ডেস্ক

গত ৩১ আগস্ট ভারতের আসাম রাজ্যের নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা (এনআরসি) প্রকাশ করা হয়। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যটির নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়েন ১৯ লাখেরও বেশি মানুষ। বিষয়টি নিয়ে গতকাল রোববার মুখ খোলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি ঘোষণা করেন, ‘প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে তাড়ানো হবে।’

অমিত শাহ আরো জানান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া সংবিধানের ৩৭১ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহার করা বা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য নেই কেন্দ্রের। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

রোববার আসামের গুয়াহাটিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কাউন্সিল বৈঠকে অমিত শাহ বলেন, ‘এনআরসি নিয়ে বিভিন্ন মানুষ নানা রকম প্রশ্ন তুলেছেন। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ভারত সরকার একজন অনুপ্রবেশকারীকেও এ দেশে থাকতে দেবে না। এটা আমাদের অঙ্গীকার।’

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো আসাম সফরে গেলেন অমিত শাহ। ভারতের ১৯৫৮ সশস্ত্র আইনে (বিশেষ ক্ষমতা) আসামকে সবচেয়ে উপদ্রুত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।

এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর বহু বাঙালি হিন্দুর নাম বাদ পড়ায় ক্ষুব্ধ বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ। এই বাঙালি হিন্দুদের সংখ্যা আসামের মোট জনসংখ্যার ১৮ শতাংশ। এ ছাড়া বিজেপির ভোটব্যাংক হিসেবেও বিবেচিত হতেন এই বাঙালি হিন্দুরা। আসামের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে এনআরসি থেকে বাদপড়ার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হওয়ায় উদ্বেগ দেখা দেয়।

চলতি বছরের লোকসভা নির্বাচনে আসামে ১৪টি আসনে জিতেছে বিজেপি। সেখানকার আদিবাসী, আসামের হিন্দু ও বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটেই জয় পেয়েছে দলটি।

এনডিটিভির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিজেপি বিধায়ক শিলাদিত্য দেব অভিযোগ করেন, হিন্দুদের তাড়ানো ও মুসলমানদের সাহায্য করারই অংশ এনআরসি। এ ছাড়া এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা দুর্নীতিতে ভরা বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

গত বছর অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করে এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা পরিষদীয় আইন বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে পুনরায় পরীক্ষার প্রস্তাব দেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দন সোনওয়াল।

চলতি বছরের গোড়ার দিকে লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজস্থানে নির্বাচনী প্রচারের সময় বাংলাদেশি শরণার্থীদের ‘উইপোকা’ বলে মন্তব্য করেন অমিত শাহ।

জম্মু ও কাশ্মীরের মতো ভারতের উত্তর-পূর্বেও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে সৃষ্ট আশঙ্কার বিষয়ে অমিত শাহ বলেন, ‘সংসদে আমি স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, এমন কিছু হবে না এবং আমি উত্তর-পূর্বের আট মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আজ আবারও বলছি, ৩৭১ অনুচ্ছেদে হাত দেবে না কেন্দ্রীয় সরকার।’

৫ আগস্ট ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ করে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার এবং রাজ্যটিকে ভেঙে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার ঘোষণা করেন অমিত শাহ। এর আগে থেকেই গোটা রাজ্য কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনীতে ঘিরে ফেলা হয়। বহু বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদসহ গ্রেপ্তার করা হয় অনেককে।

Advertisement