কমিটিতে আরও নারী নেতৃত্ব রাখতে বিএনপির নির্দেশ

সারা দেশে বিএনপির জেলা ও মহানগর কমিটিতে ১৫ শতাংশ নারী সদস্য যুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জেলা ও মহানগর কমিটির সভায় নতুন করে যুক্ত নারী সদস্যদের নামের তালিকা প্রস্তুত করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি এরই মধ্যে সারা দেশে সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দলের গঠনতন্ত্রের বিধান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলা ও মহানগর কমিটিতে আরও ১৫ শতাংশ নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কমিটি বৈঠক করে কমিটির সংখ্যার ১৫ শতাংশ নারী সদস্যের নামের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। পরে কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে প্রস্তাব পাঠাতে হবে।’
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রস্তাবকৃত নারী সদস্যের দলে আনুগত্য, সম্পৃক্ততা, সক্রিয়তা, বয়স, যোগ্যতা, দল ও সমাজে গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করতে হবে।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত এমরান সালেহ প্রিন্স কেন্দ্র থেকে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাজনৈতিক দলের কমিটিতে রাখতে হবে। সেখানে বিএনপি ১৫ শতাংশ সদস্যের কথা কেন বলছে জানতে চাওয়া হলে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘আমাদের অনেক কমিটিতে নারী সদস্যরা আছেন। এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বর্তমান কমিটিতে যারা আছেন তাদের বাইরেও নারী সদস্য রাখতে হবে। এটা হয়তো ধাপে ধাপে বাড়বে।’
দলের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি করে আসছিলাম আমরা। কারণ আমরা নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সবসময় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছি। নারীদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বিএনপির এই সিদ্ধান্ত একটি বড় অর্জন। রাজনৈতিক সচেতন নারীরা আরও উদ্বুদ্ধ হবে।’
বাংলাদেশের নির্বাচনি আইনে বলা আছে, ২০২০ সালের মধ্যে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সব কমিটিতে কমপক্ষে ৩৩ শতাংশ নারী থাকতে হবে।