কুষ্টিয়ায় শেষ হলো তিনদিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব

‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ’র এই আধ্যাত্মিক বাণীর স্লোগান নিয়ে ১৩২তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়িতে চলা তিনদিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব শেষ হয়েছে। বুধবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করেন প্রধান অতিথি ও খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মো. খাইরুল আলম। প্রধান আলোচক ছিলেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সরোয়ার মুর্শেদ। আলোচনা শেষে মূল মঞ্চে লালন একাডেমির শিল্পীরা লালন ফকিরের আধ্যাত্মিক গান পরিবেশন করেন। এদিকে উৎসব ছেড়ে অধিকাংশ সাধু গুরুরা ফিরে গেছেন তাদের নিজ নিজ গন্তব্যে।
উল্লেখ্য, ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী সাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ’র মৃত্যুর পর থেকে তার স্মরণে লালন একাডেমি ও জেলা প্রশাসন এই লালন স্মরণোৎসব চালিয়ে আসছে। এবারও পথপ্রদর্শক লালনকে স্মরণ ও অবাধ্য মনকে শুদ্ধ করতে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার লালন অনুসারী, ভক্ত-অনুরাগী আর দর্শনার্থীরা এই আখড়াবাড়িতে অবস্থান নিয়েছিলেন।
রীতি অনুযায়ী সোমবার সন্ধ্যায় অধিবাস, পরদিন সকালে বাল্য ও দুপুরে পূর্ণ সেবার মধ্য দিয়ে সাধু সঙ্গ শেষ করে অনুসারীরা আখড়াবাড়ি ছেড়ে ফিরে গেছেন তাদের নিজ গন্তব্যে। ঐতিহাসিক এই উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কয়েকস্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।