Beta

তিন দিনে সরকার ফেলে দিতে পারতেন কাদের সিদ্দিকী!

০৯ নভেম্বর ২০১৮, ২১:০০ | আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৪৩

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী আজ শুক্রবার বিকেলে রাজশাহীর আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে আয়োজিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিভাগীয় জনসভায় বক্তব্য দেন। ছবি : স্টার মেইল

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, আমি যতদিন বেঁচে থাকব বঙ্গবন্ধুকে হৃদয়ে ধরে বেঁচে থাকব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর জিয়াউর রহমানের এই যে দ্বন্দ্ব, এই দ্বন্দ্ব করে যারা দেশকে লুটেপুটে খাচ্ছে, আল্লাহ যদি আমাকে সময় দেয় তাহলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আর জিয়াউর রহমানের দ্বন্দ্ব আমি মিটিয়ে ছাড়বো ইনশাল্লাহ।

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজশাহীর আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে আয়োজিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিভাগীয় জনসভায় এসব কথা বলেন কাদের সিদ্দিকী।

জনসভায় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, খালেদা জিয়া ২০১৫ সালে লাগাতার হরতাল-অবরোধ দিয়েছিলেন। আমি উনাকে হরতাল-অবরোধ প্রত্যাখান করতে অনুরোধ করেছিলাম, কিন্তু তিনি হরতাল প্রত্যাখ্যান করতে পারেন নাই। জনগণই অবরোধ ভেঙেছে।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, এর আগে শেখ হাসিনাকে বলেছিলাম আলোচনায় বসুন, বসেননি। এবার আলোচনায় বসেছেন।

রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। ছবি : স্টার মেইল

সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বলেন, শেখ হাসিনা যেদিন আলোচনায় বসেছেন সেদিনই আপনাদের বিজয় হয়েছে। আপনারা কি শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় চান। বাংলাদেশের রাজনীতি মানেই খালেদা জিয়া, তাঁকে বন্দি রাখা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বিএনপি রাজাকারের গাড়িতে পতাকা দেয়নি। শেখ হাসিনা রাজাকারের গাড়িতে প্রথম পতাকা দিয়েছেন।

জনসভায় কাদের সিদ্দিকী বলেন, আপনাদের দুঃসময়ে এই সমাবেশে যতো মেয়ে এসেছে, এর অর্ধেক মেয়ে আমার দলে থাকলে, আমি শেখ হাসিনাকে সরকার থেকে তিন দিনের মধ্যে ফেলে দিতে পারি।

বঙ্গবীর বলেন, টাঙ্গাইল থেকে সড়কপথে এসেছি, রাস্তায় রাস্তায় বাধা এসেছে। আমাকে ফেরাতে পারেনি। এই মাঠের মানুষদেরও পারেনি। হাসিনা কথা দিয়েছিলেন, জনসভায় বাধা দেবেন না। কিন্তু আমার গাড়ি পাঁচবার ধরেছে। তারপর আমাকে ভুল রাস্তা দেখিয়ে দিয়েছে। আমি সমাবেশের রাস্তা খুঁজে বের করেছি।

আজ দুপুর ২টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভা শুরু হয়। শারীরিক অসুস্থতার কারণে আজকের জনসভায় যোগ দিতে পারেননি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তবে তিনি জনসভায় মুঠোফোনে বক্তব্য দিয়েছেন।

রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একাংশ। ছবি : স্টার মেইল

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট রাজশাহীর সমন্বয়ক বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুর সভাপতিত্বে জনসভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফা মোহসিন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, উপদেষ্টা এসএম আকরাম, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, মো. শাহজাহান, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement