Beta

কুষ্টিয়ায় কিশোরী ফুটবলারকে ধর্ষণের অভিযোগ, আসামি গ্রেপ্তার

১১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:৩৩

সাবিনা ইয়াসমিন শ্যামলী, কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়া জেলা নারী ফুটবল দলের এক খেলোয়াড়কে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী নবম শ্রেণিতে পড়ে।

বুধবার ওই কিশোরীর দাদি বাদি হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ রাতেই মামলার আসামি নয়নকে গ্রেপ্তার করেছে। নয়ন কুষ্টিয়া শহরের কমলাপুর এলাকার বাসিন্দা।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ওই কিশোরী ফুটবলারকে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্ত্যক্ত করছিলেন নয়ন। গত ৯ ডিসেম্বর সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর এলাকায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই মেয়ের ঘরে ঢুকে পড়েন নয়ন। ওই কিশোরীকে ঘুমন্ত অবস্থায় জাপটে ধরে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালান তিনি।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তার সুরাহা না হওয়ায় বুধবার ওই নারী ফুটবলারের দাদি বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা করেন। পরে রাতেই আসামি নয়নকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

এদিকে এ ঘটনায় নয়নের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরী খেলোয়ার, তার পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী।

ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী অভিযোগ করে বলে, ‘আমি স্কুল থেকে স্টেডিয়ামে খেলাধুলা করতে আসতাম। এ সময় নয়ন আমাকে অনেক বিরক্ত করতো। এ ব্যাপারটি আমি আমার কোচকেও জানাই। আমার কোচ এ বিষয়টি নিয়ে আমার পরিবারকে জানাতে বলেন। এরপর বাসায় এসে এ ব্যাপারে আমার দাদিকে জানাই। দাদি নয়নের বাসায় এ ব্যাপারে অভিযোগ করেন। কিন্তু নয়নের পরিবার এ ব্যাপারে তাকে কিছুই বলে না। তার কিছুদিন পরেই নয়ন এই কাজটি করে।

‘ওইদিন আমি খাওয়া দাওয়া শেষ করে ঘুমাতে যাই, তখন রাত সাড়ে ১১টার মতো বাজে। তখন দেখি আমার গায়ের ওপর কে যেন উঠেছে। তারপরই নয়ন আমাকে ধর্ষণ করেছে। একপর্যায়ে দাদি পাশের ঘর থেকে দরজা খুলতে বলেন। কিন্তু আমি উঠার চেষ্টা করেও দরজা খুলতে পারছিলাম না। তারপর দাদি চিৎকার করলে এলাকার লোকজন জড় হয়। এরপর নয়ন দরজা খুলে পালাতে চাইলে লোকজন দরজায় তালা লাগিয়ে দিলে নয়ন আর পালাতে পারেনি।

তারপরের দিন সকাল ৭টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যের সহযোগিতায় নয়নের পরিবার নয়নকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। চেয়ারম্যান ও সদস্যসহ নয়নের পরিবার তিন লাখ টাকা দেনমোহর দিয়ে ওইদিন বিকেলেই নয়নের সঙ্গে আমার বিয়ে দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করতে চান। কিন্তু আমরা তাতে রাজি হইনি।

তারপর আমরা থানায় গেলাম। কিন্তু থানা থেকেও আমরা হয়রানির শিকার হই। চেয়ারম্যানের কথায় থানা থেকে আমাদের মামলা নেওয়া হচ্ছিল না। পরে ক্রীড়া সংস্থাকে জানালে সেখান থেকে থানায় চাপ দেওয়া হয়। পরে মামলা নিতে বাধ্য হয় পুলিশ।’

ওই কিশোরীর দাদি ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘ওইদিন রাতে বাসায় কারেন্ট ছিল না। তখন মেয়ে ওর রুমের দরজা খুলে অন্য রুমে খেতে আসে। এর ফাঁকে কখন নয়ন রুমের ভেতর ঢুকে পড়ে তা আমরা জানি না। এর মধ্যে দেখি ওর রুমের মধ্যে ধস্তাধস্তির শব্দ হচ্ছে। এবং মেয়ে ছটফট করছে। আমি গিয়ে দরজা খুলতে বললে দরজা খুলতে পারেনি। মেয়ের মুখ চেপে রাখা হয়েছিলো। পরে ঘরের বেড়ায় ফুটো করে দেখি এই ঘটনা। পরে আমি কান্নাকাটি শুরু করি। আমার কান্নাকাটি শুনে আমার ভাসুর উঠে আসে। এবং আমার অন্য দুই ছেলেকে ডেকে আনা হয়। পরে নয়ন পালাতে চাইলে ওরা রুমে তালা দিয়ে নয়নকে আটকে রাখে।’

এর মধ্যে মেয়ে অসুস্থ হয়ে যায়। পরে ওকে সুস্থ করা হয়। পরে চেয়ারম্যান ও মেম্বার এসে তালা খুলে নয়নকে ছাড়িয়ে নেন। পরে তিন লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করতে বলা হয়।’

এ সময় ওই কিশোরীর দাদি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘টাকা দিয়ে মীমাংসার কথা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আমরা মুখ দেখাতে পারি না। লোকজন বলে এক রাতেই নাকি আমরা তিন লাখ টাকা নিয়েছি। পরে আমি মেয়ের খেলার দলের লোকজনের কাছে গিয়ে এর বিচার চেয়েছি।’

মামলা প্রসঙ্গে দাদি বলেন, ‘তারপরের দিন আমি থানায় গেলাম। থানার ওসি চেয়ারম্যানকে ফোন দিয়ে নয়নকে ছাড়ানোর জন্য অনেক বকাঝকা করলেন। পরে দারোগা সাহেব বললেন, কেস কোর্টে তুলতে। কিন্তু কেস চালানোর মতো আর্থিক অবস্থা আমার নেই।’

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কিন্তু ক্যামেরার সামনে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

Advertisement