Beta

পাবনার তিন পুলিশ হত্যা মামলায় আট চরমপন্থীর যাবজ্জীবন

২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১৭:৪৫

পাবনার বেড়া উপজেলার ঢালারচরে চাঞ্চল্যকর তিন পুলিশ হত্যা মামলায় আট চরমপন্থীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা শেষে আসামিদের কারাগারে নিয়ে যায় পুলিশ। ছবি : এনটিভি

পাবনার বেড়া উপজেলার ঢালারচরে চাঞ্চল্যকর তিন পুলিশ হত্যা মামলায় আট চরমপন্থীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাদের প্রত্যককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তিন আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের বিচারক অনুপ কুমার এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, মামলা চলাকালে অপর পাঁচ আসামি বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে নিহত হয়েছেন।

যাবজ্জীবন কারাণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন পাবনার বেড়া উপজেলার ঢালারচর গ্রামের জহুরুল ইসলাম, রাজধরদিয়া গ্রামের নিজাম ফকির, ধারাই গ্রামের রফিক ওরফে জৈটা রফিক, পশ্চিম কাছাদিয়া গ্রামের আইয়ুব আলী ও শুকুর আলী সরদার, আটঘরিয়া উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের হাশেম ওরফে খোকন ওরফে বাচ্চু, সুজানগর উপজেলার পাকুরিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ওরফে কানা আলম এবং রাজবাড়ী জেলার মাইছে ঘাটা গ্রামের জোসন মোল্লা। তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠন পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির সদস্য।

রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু জানান, মামলায় ১৬ জন আসামি ছিলেন। এর মধ্যে আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তিন আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। দণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিদের মধ্যে জহুরুল ইসলাম ও হাশেম ওরফে খোকন এখনো পলাতক রয়েছেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০১০ সালের ২০ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে বেড়া উপজেলার মালদার হাট বাঁধের ধারে ঢালারচর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত উপপরিদর্শক (এসআই) কফিল উদ্দিন (৫০), নায়েক ওয়াহেদ আলী (৩৫) ও কনস্টেবল শফিকুল ইসলামকে (৩৫) গুলি করে হত্যা করে চরমপন্থীরা। এ ঘটনায় বেড়া থানার পুলিশ কনস্টেবল রশিদুল ইসলাম বাদী হয়ে পরের দিন ২১ জুলাই একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১১ সালের ৩১ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। মামলাটি পরে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ২০১৬ সালে রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ নয় বছর পর সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে এ রায় ঘোষণা করা হলো।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আবু বক্কর ও রাইসুল ইসলাম।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু জানান, ঘটনার সময় রাতে তেল নেওয়ার জন্য ঢালারচর বাধের ওপর মালদার হাট গিয়েছিল চার পুলিশ সদস্য। সেখানে চরমপন্থীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তিন পুলিশ পাশের আক্কাস আলীর বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকে ধরে নিয়ে এসে বাঁধের ওপর তাদের ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয়। এরপর তারা সর্বহারা দলের স্লোগান দিয়ে চলে যায়। মামলার বাদী প্রথমেই বাঁধের নিচে কচুরিপানার মধ্যে পড়ে গিয়ে লুকিয়ে যাওয়ায় রক্ষা পান।

Advertisement