ভোলায় সড়কের পাশে বিরল নাগলিঙ্গম ফুল

লম্বা গাছে থোকায় থোকায় ফুটে আছে নয়নাভিরাম নাগলিঙ্গম ফুল। ভোলা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর চরনোবাদ এলাকায় একটি ঔষধি গাছ ‘নাগলিঙ্গম’-এর সন্ধান পাওয়া গেছে।
আজ শনিবার (৫ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা গেছে, চরনোয়াবাদ এলাকায় অবস্থিত জাইল্লাবাড়ির ঘাটে সড়কের পাশে আকাশ ছোঁয়া বিশাল আকৃতির গাছটিতে ফোটা নাগলিঙ্গম ফুল শোভা পাচ্ছে। গাছের নিচে ছড়িয়ে আছে অনেক ফুলের পাপড়ি ও রেণু। ওই এলাকার মো. লোকমান মিয়ার বাগানবাড়িতে রয়েছে গাছটি। বাড়িতে বর্তমানে র্যাব-৮-এর ভোলা ক্যাম্প অবস্থিত। গাছটি লাগিয়েছিলেন লোকমান মিয়া নিজ হাতে। তিনি এখন আর বেঁচে নেই, কিন্তু দাঁড়িয়ে আছে গাছটি।
জানা গেছে, সবুজ পাতার বৃহদাকৃতির গাছ নাগলিঙ্গমের আদি নিবাস মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার বনাঞ্চল। এর ইংরেজি নাম Cannonball Tree আর বৈজ্ঞানিক নাম Couroupita guianensis। ঢাকায় জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান, কার্জন হল, বলধা গার্ডেনসহ কিছু স্থানে নাগলিঙ্গম গাছ আছে।
বাগানবাড়িটির আশপাশে থাকা বাসিন্দারা জানান, গাছের নাম তারা জানেন না। প্রতিবছর দীর্ঘ সময় ধরে গাছটিতে ফুল ধরে, গন্ধ বিলায়, দু-একটি ফলও ধরে। ফুল ফুটে কিছুদিন থেকে মাটিতে ঝড়ে পড়ে। গাছটি বর্তমানে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ হাত লম্বা। গাছের মাথায় ছড়ানো ডালপালায় লম্বাটে সবুজ পাতাগুলো গুচ্ছ আকারের। পাতাগুলোর আয়তন ২৮ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার। সাধারণত অন্যান্য প্রজাতির গাছের শাখা বা পাতার পাশ থেকে ফুল-ফল জন্মায়; কিন্তু এ গাছে লটকন কিংবা যজ্ঞডুমুরের মতো গাছের মূল কাণ্ড থেকে সরাসরি ফুল ও কলি জন্মেছে। ফুলের পাপড়ির রং লালচে গোলাপি, কেন্দ্র বা ভেতরটা হালকা গোলাপি। ফুলের আকৃতি অনেকটা ফণা তোলা সাপের মতো। গোলাকার ফুলের দিকে তাকালে মনে হয় ফলবতী। সবুজ পাতার বৃহদাকৃতির গাছ নাগলিঙ্গমের আদি নিবাস মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার বনাঞ্চল।

ভোলা সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘এটি বিপদগ্রস্তের তালিকাভুক্ত একটি উদ্ভিদ। নাগলিঙ্গমের ভেষজ গুণও অনন্য। ফুল, পাতা ও বাকলের নির্যাস থেকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ তৈরি হয়। অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিফাঙ্গাল, অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে ব্যবহার করা হয় এর নির্যাস। এই গাছ থেকে তৈরি ওষুধ পেটের পীড়া দূর করে। পাতার রস ত্বকের নানা সমস্যায় কাজ দেয়। ম্যালেরিয়া রোগ নিরাময়ে নাগলিঙ্গমের পাতার রস ব্যবহৃত হয়। সনাতন ধর্মের মানুষ শিবপূজায় নাগলিঙ্গম ফুল ব্যবহার করেন। সবুজ লতার ফাঁকে ফাঁকে লালচে গোলাপি ফুল আর কলি দেখা যায়।’