নগরীর মশা নিধনে যুক্ত হচ্ছে সেনাবাহিনী : ডিএনসিসি প্রশাসক

রাজধানীতে হঠাৎ করেই বেড়েছে মশার উপদ্রব। বাসাবাড়ি, দোকানপাট, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত সব জায়গায় চলছে মশার রাজত্ব। বৃষ্টি হলেই এই উপদ্রব আরও বেড়ে যায়। এমন অবস্থায় মশক নিধনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। মশার ওষুধ ছিটানো থেকে শুরু করে এই কাজের মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে সুদক্ষ এই বাহিনীকে।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) এক সাক্ষাৎকারে ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ মশক নিধনে তার বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘নগরীর মশক নিধনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং যে বিষয়টি তা হলো—মশার ওষুধ ঠিকমতো ছিটানো হয় না। যারা মশার ওষুধ ছিটান তাদের সঠিকভাবে তদারক করার জন্য আমাদের কোনো অনলাইন মেকানিজম নেই। এই কাজে যাদের সঙ্গে আমাদের থার্ড পার্টি অ্যাগ্রিমেন্ট ছিল সেটা বাদ দিয়ে দিচ্ছি। তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল হয়ে যাচ্ছে। যদি এটা বাতিল হয় আমরা আর্মির সঙ্গে কথা বলেছি, আর্মি এটা সার্ভিলেন্স করতে রাজি আছে। সুতরাং আর্মি যেহেতু একটা দক্ষ প্রতিষ্ঠান। আর এটা যেহেতু জনস্বাস্থ্যের বিষয়, তাই আমি আর এ বিষয়ে রিস্ক নিতে চাই না। মনিটরিং সার্ভিস এবং মশার ওষুধ ছিটানোর যে সার্ভিস সেটা আমরা আর্মিকে দিয়ে দেবো।’
সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি মশক নিধনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় মশার ট্র্যাপ বসানো হচ্ছে। একটা ট্র্যাপ বসালে ১০০ মিটার পর্যন্ত কোনো মশা থাকবে না বলে জানান মোহাম্মদ এজাজ।
এক একটা ট্র্যাপ প্রতিদিন তিন থেকে চার কেজি মশা মারতে পারে উল্লেখ করে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, প্রথমে সিটির ১নং অঞ্চলে অর্থাৎ পুরো উত্তরা ও খিলখেত এলাকায় এই ট্র্যাপ বসানো হবে।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, এসব কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রচুর সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে। এর জন্য হাজার-হাজার যুবককে মাঠে নামানো হবে। ডেঙ্গু মোকাবেলায় এবার পাঁচ হাজার যুবককে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে।
ডেঙ্গু মৌসুমের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে আগামী সপ্তাহে ঢাকা শহরের সব হাসপাতালের পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন উল্লেখ করে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘আমরা সব হাসপাতালের পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক করবো, তারা যেন তাদের হাসপাতালে আলাদা করে ডেডিকেটেড ডেঙ্গু কর্নার করে রাখে। ওষুধ ছিটানো থেকে শুরু করে যাবতীয় কার্যক্রম আমরা করবো পাশাপাশি যাতে কোনো ধরনের জনস্বাস্থ্যজনিত সংকট তৈরি না হয় এজন্য এই আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি।’
ডেঙ্গুর ব্যাপারে সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘ডেঙ্গু একটা বড় ধরনের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংকট। এই সংকট মোকাবেলায় সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। এডিস মশা যেহেতু বাসায় জন্মায় তাই আমাদের সবাইকেও এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। নিরাপত্তার কারণে মশক নিধন কর্মীদের অনেক নাগরিক বাসার ভেতরে, কার্নিশে, বারান্দায় যেতে দেওয়া হয় না। সুতরাং এডিস মশা থেকে রক্ষা পেতে নাগরিকদের নিজেদেরও সচেতন হতে হবে। তারপরও আমরা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু ডেডিকেটেড কর্নার করছি।’