১৬০ ইউপি ও ৯ পৌরসভায় ভোট চলছে

প্রথম ধাপের স্থগিত ১৬০ ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ভোটগ্রহণ চলছে। একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ষষ্ঠ ধাপের স্থগিত নয়টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ। আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে তৃণমূলের এ নির্বাচনে। এদিকে, কিছু এলাকায় ভোটারদের সরব উপস্থিতি দেখা গেলেও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কিছু এলাকায় ভোটার সংখ্যা তেমন একটা দেখা যায়নি।
এর আগে ভোটগ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নভেল করোনাভাইরাসজনিত মহামারির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ নির্বাচন হওয়ার কথা জানিয়েছে সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটি। ইসি থেকে হুঁশিয়ার করে বলা হয়েছে, যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঢাকার বাইরে থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
সাইফুল ইসলাম সজল, যশোর : যশোরের নওয়াপাড়া পৌরসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে সকাল থেকেই ভোটার উপস্থিতি কম ছিল। তবে, এ পৌরসভায় প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোট হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে রয়েছে উৎসাহ উদ্দীপনা।
নির্বাচনে মেয়র পদে তিন জন, নয়টি ওয়ার্ডে সংরক্ষিত মহিলা আসনে ১১ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৫৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই, আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সুশান্ত কুমার দাস শান্ত, এ ছাড়া জাতীয় পার্টির আলমগীর হোসেন ফারাজী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহসিন শেখ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ পৌরসভার মোট ভোটার ৬৩ হাজার ১৮৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩১ হাজার ১৪১ জন এবং নারী ভোটার ৩২ হাজার ৪৫ জন। ৩০টি কেন্দ্রে ১৮৪টি বুথে চলছে ভোটগ্রহণ। তবে, গত রাতে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় অধিকাংশ কেন্দ্রে পানি জমে গেছে। এ জন্য সকাল থেকেই ভোটার উপস্থিতি ছিল কম।
নির্বাচনে নিরাপত্তা বিধানে ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৫০০ পুলিশ সদস্য, তিন প্লাটুন বিজিবি সদস্য ছাড়াও র্যাব সদস্য ও গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যেরা দায়িত্ব পালন করছেন।
মো. মাসুদ পারভেজ, নোয়াখালী : নোয়াখালীর কবিরহাট পৌরসভা, হাতিয়া ও সুবর্ণচর উপজেলার ১৩টি ইউপি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। তবে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জহিরুল হক রায়হান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় কবিরহাট পৌরসভায় শুধু কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।
কবিরহাট পৌরসভা নির্বাচনে ৯টি কেন্দ্রে ১৫ হাজার ৪৫১ জন ভোটার রয়েছেন। ৯টি ওয়ার্ডে ৩০ জন প্রার্থী কাউন্সিলর পদে লড়ছেন। পুরুষ সদস্য পদে ২৫ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে পাঁচ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, পাঁচ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, প্রতি কেন্দ্রে পাঁচ জন পুলিশ, নয় জন আনসার রয়েছেন। এ ছাড়া দুই প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের চারটি টিম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চারটি মোবাইল টিম ও র্যাবের তিনটি স্ট্রাইকিং ফোর্স দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে জেলার হাতিয়া উপজেলায় সাতটি ইউপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে ৮৬টি কেন্দ্রে এক লাখ ৬৮ হাজার ৫৫৬ জন ভোটার রয়েছেন। সাতটি ইউনিয়নে মোট চেয়ারম্যান প্রার্থী ৩৩ জন, পুরুষ সদস্য পদে ২৯৩ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৮৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে ১৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, তিন জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ৬৭৫ জন পুলিশ, এক হাজার ৪৬২ জন আনসার, ছয় প্লাটুন কোস্টগার্ড, দুই প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের পাঁচটি টিম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাতটি মোবাইল টিম ও তিনটি স্ট্রাইকিং ফোর্স দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ছাড়া সুবর্ণচরে ছয়টি ইউপির নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৭ জন। পুরুষ সদস্য পদে ২০৩ ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৬৬ জন নির্বাচনি লড়াইয়ে নেমেছেন। ছয়টি ইউনিয়নে ৫৬টি কেন্দ্রে এক লাখ ১৯ হাজার ৮১৬ জন ভোটার রয়েছেন। এ উপজেলার ছয়টি নির্বাচনি এলাকায় নিরাপত্তায় ১১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, দুজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ৫৫৭ জন পুলিশ, ৯৫২ জন আনসার, ছয় প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের আটটি টিম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছয়টি মোবাইল ফোর্স ও দুটি স্ট্রাইকিং ফোর্স নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করছেন।
সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর : ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। তবে মেয়র পদে বিএনপিসহ অন্য বড় দলের প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর একক প্রচারে নির্বাচনি পরিবেশ নিরুত্তাপ রয়েছে।
নির্বাচন উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি মোতায়েন রয়েছে বিজিবি। এই প্রথমবারের মতো সব কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে।
নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিন জন প্রার্থী। আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে মেয়র পদে থাকা আবু ফয়েজ মো. রেজা। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে ইসমাইল মুন্সী ও মো. আসাদুজ্জামান হাতপাখা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। মেয়র পদে ছাড়াও কাউন্সিলর পদে মোট ৪৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৩ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভা নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৬ হাজার ৮৮১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১৩ হাজার ৪৪৬ এবং নারী ভোটার সংখ্যা ১৩ হাজার ৪৩৫ জন।
এদিকে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেয়র পদে বিএনপিসহ অন্য বড় দলের প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী অনেকটা এককভাবে প্রচার চালিয়েছেন। তাই নির্বাচনি আমেজ অনেকটা কমে গেছে। তবে কাউন্সিলর পদের প্রার্থীদের জন্য কিছুটা নির্বাচনি পরিবেশ বিরাজ করছে।
সুভাষ চৌধুরী, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার তালা ও কলারোয়া উপজেলার ২১টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য পদে ভোটগ্রহণ চলছে। তবে ভোর থেকে বিরামহীন বৃষ্টির কারণে ভোটাররা ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। ভোটকেন্দ্রে পানি জমে যাওয়ায় ভোটগ্রহণ বিঘ্নিত হচ্ছে।
তালা উপজেলার ১২টির মধ্যে কুমিরা বাদে ১১টিতে এবং কলারোয়ার ১২টির মধ্যে কেরালকাতা ও কুশোডাঙ্গা ছাড়া বাকি ১০টি ইউপিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নির্বাচন।
তালার যেসব ইউপিতে নির্বাচন হচ্ছে সেগুলো হলো—তালা সদর, তেঁতুলিয়া, খলিলনগর, সরুলিয়া, খেশরা, ইসলামকাটি, ধানদিয়া, নগরঘাটা, খলিশখালী, মাগুরা ও জালালপুর। এর মধ্যে প্রথম তিনটিতে এই প্রথমবারের মতো ভোট হবে ইভিএম পদ্ধতিতে। এই ১১টি ইউপির ১০৪টি কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৩০ হাজার ৮২৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ১৬ হাজার ৪৭০ জন ও নারী ভোটার এক লাখ ১৪ হাজার ৩৫৪ জন। এদিকে, নৌকা প্রতীক পেয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন ১১ জন। মোট ৪৩ প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে ৩২ জন প্রার্থী বিভিন্ন দলের হলেও তাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন স্বতন্ত্র হিসেবে। সব ইউপিতে আওয়ামী লীগের এক জন করে বিদ্রোহী প্রার্থীও রয়েছেন।

এদিকে, কলারোয়া উপজেলার ১০টি ইউপিতে ১০ জন আওয়ামী লীগের হয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিশাখা সাহা নামের মহিলা আওয়ামী লীগের এক নেত্রী। এ ছাড়া জামায়াত ও বিএনপি থেকে অন্যরা হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এই উপজেলায় ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৪৪ হাজার ২৬৪ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭২ হাজার ৫৫৬ জন ও নারী ভোটার ৭১ হাজার ৭০৮ জন। এখানে মোট প্রার্থী ৩৮ জন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজমুল কবির জানান, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমরা সব ব্যবস্থা নিয়েছি। কেন্দ্রগুলোতে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাঠে রয়েছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।