খেলার মাঠেই মুসলিম ফুটবলারের ইফতার

বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ইংলিশ ক্লাব টটেনহাম হটস্পার ও ডাচ দল আয়াক্স। প্রথম লেগে হেরে যাওয়া টটেনহাম অবিশ্বাস্য পারফর্ম করে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠে যায়। তবে এগুলো ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন আয়াক্সের দুই মুসলিম ফুটবলার।
চলছে মুসলমানদের সবচেয়ে পবিত্র মাস রমজান। আর রমজানের রোজা রেখেই টটেনহামের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন আয়াক্সের দুই মুসলিম হাকিম জিয়ের ও নুসাইর মাজরুই। ম্যাচ চলাকালীন প্রথমার্ধে ইফতারের সময় হতেই সাইডলাইনে গিয়ে চট করে ইফতার সারেন দুই মুসলিম খেলোয়াড়। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে দুজনের রোজা রেখে খেলতে নামা এবং ইফতার করার ঘটনা।
টটেনহামের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধের ২৫ মিনিট রোজার মধ্যে পড়ে যায়। এত বড় ম্যাচ আর সেমিফাইনালের উত্তেজনা, সব জানা থাকা সত্ত্বেও রোজা রেখেই খেলার সিদ্ধান্ত নেন আয়াক্সের হাকিম ও নুসাইর। সেভাবেই খেলতে নামেন দুই মুসলিম ফুটবলার। ম্যাচের ২৪ মিনিটে ইফতারের সময় হতেই সাইডলাইনে চলে যান আয়াক্সের দুই ফুটবলার। দ্রুত খেজুর দিয়ে সেরে নেন ইফতারি।
ইংলিশ লিগের শক্তিশালী দল টটেনহাম। দ্রুতগতির ফুটবল খেলতে অভ্যস্ত দলটির বিপক্ষে সমানতালে লড়ার জন্য প্রচুর দমের প্রয়োজন হয়। এর পাশাপাশি রয়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল লড়াইয়ের উত্তাপ। স্বাভাবিকভাবেই ফুটবলভক্তদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, রোজা রেখে কি এমন ম্যাচে এত বড় দলের বিপক্ষে ভালো পারফর্ম করা সম্ভব। জবাবটা কিন্তু মাঠেই দিয়েছেন আয়াক্সের দুই মুসলিম ফুটবলার। ইফতারি করার ১১ মিনিট পর টটেনহামের বিপক্ষে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন হাকিম জিয়েচ। ফন ডি বিকের পাস থেকে বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় গোল করে আয়াক্সকে ২-০ গোলে এগিয়ে দিয়েছিলেন রোজা অবস্থায় মাঠে নামা এই মুসলিম ফুটবলার।
আরেক মুসলিম ফুটবলার নুসাইরও মাঠে প্রচণ্ড পরিশ্রম করে খেলেন। রোজা রাখার কারণে তাঁদের পারফরম্যান্সে কোনো শিথিলতা লক্ষ করা যায়নি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাঁদের। দ্বিতীয়ার্ধে লুকাস মোউরার হ্যাটট্রিকে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে ফাইনালে উঠে যায় টটেনহাম।