আত্মহত্যার কারণ বায়ুদূষণ!

বায়ুদূষণ মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ায়—এটি সবারই জানা। এবার জানা গেল বায়ুদূষণ আত্মহত্যার হারও বাড়ায়। সম্প্রতি এক গবেষণায় ভিত্তিতে এই দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ ইউনিভার্সিটি একদল গবেষক বায়ুদূষণ এবং এর সঙ্গে মানুষের আত্মহত্যার হার বৃদ্ধি নিয়ে এ গবেষণা করেন। গবেষণায় নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক আমান্ডা বাকিয়ান।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ইউটাহ অঙ্গরাজ্যে আত্মহত্যার হার সর্বোচ্চ। এখানে মানুষের মৃত্যুর কারণ হিসেবে আত্মহত্যার অবস্থান অষ্টম। যুক্তরাষ্ট্রে এই অবস্থান দশম। এ কারণেই আত্মহত্যা নিয়ে গবেষণার জন্য ইউটাহকে বেছে নেওয়া হয়।
বাকিয়েনের নেতৃত্বে গবেষকরা ইউটাহর দেড় হাজারের বেশি মানুষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে এসব তথ্যের ভিত্তিতে বায়ুদূষণের সঙ্গে আত্মহত্যার সম্পর্ক স্থাপন করা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গত বছরের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী বায়ুদূষণে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে চতুর্থ। এর সবচেয়ে ভয়াবহ রূপটি দেখা যায় রাজধানী ঢাকায়। পুলিশের গত বছরের তথ্যমতে, দেশে প্রতিদিন গড়ে ২৮ জন আত্মহত্যা করে।
আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বিশ্বের আত্মহত্যার ঘটনার ৭৫ শতাংশই ঘটে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে।
এর আগে নরওয়ের গবেষকদের দাবি ছিল, মানুষের শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে বায়ুর এমন পরিবর্তন আত্মহত্যার কারণ হতে পারে। ওই গবেষণায় দেখা যায়, বাতাসে পুংরেণু দেখা গেলে মানুষের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ে। বায়ু দূষণের কারণেও মানুষের শরীরে প্রদাহ হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা বলেন, বাতাসের বিভিন্ন উপাদানের উপস্থিতি মানুষের শরীরের স্বাভাবিক পক্রিয়া ব্যাহত হয়। এ কারণে শরীরে প্রদাহ দেখা যায়। আর প্রদাহের কারণে মানুষ আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দিকে ধাবিত হয়। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও কানাডার গবেষণায়ও বায়ুদূষণের সঙ্গে আত্মহত্যার সম্পর্ক পাওয়া যায়।
আমেরিকান ফাউন্ডেশন ফর সুইসাইড প্রিভেনশনের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আত্মহত্যা বিষয়টি জটিল। এতে মানসিক সুস্থতার বিষয়টি বড় প্রভাব রাখে। ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় আত্মহত্যাকারী মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে সংস্থাটির মতে, শুধু মানসিক স্বাস্থ্যই নয় আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিতে একজনের তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যে ও পারিপার্শ্বিক অবস্থাসহ নানা ছোটখাটো বিষয় প্রভাব ফেলে।
যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা বলেন, বসন্তে আত্মহত্যার ঘটনা বেশি ঘটে। এর সঙ্গে সামাজিক কারণ যুক্ত থাকতে পারে। গবেষণায় আরো জানা যায়, আত্হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নারীদের চেয়ে পুরুষ এগিয়ে।