মঙ্গলে প্রাণের সম্ভাবনা নেই : নাসা

মঙ্গল গ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা নিয়ে এযাবৎকালে জল্পনা-কল্পনা কম হয়নি। পৃথিবীর নিকটবর্তী এই লাল গ্রহটিতে মানববসতি স্থাপন নিয়ে কম মাথা ঘামাচ্ছেন না বিজ্ঞানীরা। তবে সম্প্রতি নাসার গবেষকদের এক আবিষ্কার এই তোড়জোড়ে কিছুটা হলেও পানি ঢেলে দিল। তাঁরা দাবি করছেন, হাজার হাজার বছর ধরে একের পর এক সৌরঝড়ের আঘাত সয়ে সয়ে মঙ্গল এখন আর বসতি স্থাপনের উপযুক্ত নেই। সংবাদ সংস্থা স্কাই নিউজের ওয়েবসাইটে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে নাসার সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সম্মেলনে বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, নাসা একসময় পৃথিবীর মতোই উষ্ণ একটি প্রাণের সম্ভাবনাময় গ্রহ ছিল। কিন্তু হাজার বছর ধরে সৌরঝড়ের একের পর এক আঘাতে এর বায়ুমণ্ডল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন এই গতি কমে এলেও প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০০ গ্রাম গ্যাস এর বায়ুমণ্ডল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।
নাসার ‘মার্স অ্যাটোমস্পফিয়ার অ্যান্ড ভোলাটাইল ইভলিউশন’-এর প্রধান ব্রুস জ্যাকোস্কির ভাষ্যমতে, ‘এটা অনেকটা একটা ক্যাশ রেজিস্টার থেকে প্রতিদিন কিছু কয়েন তুলে নেওয়ার মতো ঘটনা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিটা বড় হয়ে দেখা দেয়।’
একেকটি সৌরঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১০ লাখ মাইল। মূলত প্রোটন আর ইলেক্ট্রনের সমন্বয়ে গঠিত এই ঝড় অতীতে অল্প সময়েই মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে বড় ধরনের পরিবর্তন করে দিয়েছে, যার ফলে একসময়ের সজীব গ্রহটি এখন ঊষর আর প্রাণহীন এক গ্রহে পরিণত হয়েছে।
অবশ্য পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে এ জাতীয় সমস্যা দেখা দেবে না, কারণ পৃথিবীর শক্তিশালী চৌম্বক শক্তি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকে ক্ষয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।
২০৩০ সাল নাগাদ নাসা মঙ্গল গ্রহে অভিযান চালানোর ব্যাপারে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ক্ষয়ে যাওয়া বায়ুমণ্ডল থাকা সত্ত্বেও নাসার উপরিপৃষ্ঠে জমাট বাঁধা বরফ থাকার ব্যাপারে তথ্য-উপাত্ত এরই মধ্যে জোগাড় করেছে।