ধীরে টাইপ করায় বাড়ে লেখার দক্ষতা

কম্পিউটারে ধীরে টাইপ করায় শব্দ নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ থাকে তাই লেখার দক্ষতা বাড়ে। কানাডার একদল গবেষক এই দাবি করেছেন। আর টাইপের গতির সঙ্গে সৃজনশীলতার সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা এটিই প্রথম।
টাইপ করার গতির সঙ্গে লেখার সৃজনশীলতা ও শব্দ চয়নের ক্ষমতা নিয়ে গবেষণা করেছেন কানাডার ওয়টারলু বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। এতে নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির চিত্রকলা বিষয়ের শিক্ষক সার্দান মেদিমোরেক। এই বিষয়ের গবেষণা প্রতিবেদনটি বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ব্রিটিশ জার্নাল অব সাইকোলজি’তে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের দুটি দলে ভাগ করা হয়। একটি দলকে টাইপ করতে বলা হয় দুই হাতে। অপরদল শুধু একটি হাত ব্যবহার করে টাইপ করার সুযোগ পায়। স্বাভাবিকভাবেই এক হাতে টাইপ করা ব্যক্তিদের লেখা হয় ধীর।
ইংরেজি টাইপ করে লেখা অনুচ্ছেদগুলো পরে কম্পিউটারে পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায় ধীরে টাইপ করা অনুচ্ছেদগুলোতে শব্দ চয়ন ও সৃষ্টিশীলতা বেশি।
গবেষণায় দেখা যায়, এক হাত ব্যবহার করে টাইপ করা ব্যক্তিরা টাইপ করায় তুলনামূলক বেশি সময় পান। এই বাড়তি সময়টুকু তাঁরা শব্দ নিয়ে চিন্তা করতে পারেন। এই কারণে তাঁদের লেখার মধ্যে শব্দে ভিন্নতা অপরদের চেয়ে বেশি।
গবেষক সার্দান মেদিমোরেক বলেন, টাইপিংয়ে অনেকে বেশ দ্রুত। তবে এটি লেখার পক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।
অপর গবেষক ইভান এফ রিস্কো বলেন, দ্রুত টাইপকারী ব্যক্তিরা প্রথমে যে শব্দ মাথায় আসে তাই লেখে। অপরদিকে ধীরে টাইপের কারণে শব্দ নিয়ে ভাবার সুযোগ কিছুটা বেশিই পান ধীরে টাইপকারীরা।
গবেষকরা বলেন, লেখার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ধীরে ধীরে বাড়ছে, যাঁর মূল লক্ষ্যই হলো আমাদের চিন্তাকে দ্রুত লিখিত শব্দের রূপ দেওয়া। তবে সৃজনশীলতার ও শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে কিছুটা ধীরে টাইপ প্রয়োজন।