১০ সেকেন্ডেই বর্জ্য থেকে সোনা!

তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে প্রতিবছর পাঁচ কোটি টন বৈদ্যুতিক বর্জ্য তৈরি হয়। এই বর্জ্য পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত করে। বৈদ্যুতিক এই বর্জ্য থেকে অল্প খরচে সোনা আলাদা করতে নতুন এক রাসায়নিক মিশ্রণ তৈরি হয়েছে। কানাডার গবেষকদের তৈরি এই মিশ্রণ ব্যবহার করে ১০ সেকেন্ডেই সোনা পাওয়া যায়।
কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক বৈদ্যুতিক বর্জ্য থেকে সোনা আলাদা করার রাসায়নিক দ্রব্য নিয়ে গবেষণা করেন। এতে নেতৃত্ব দেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষক স্টেফেন ফলি ও লংম্যান মোরাডি এবং গবেষক হিওয়া সালিমি।
গবেষকরা অ্যাসিটিক অ্যাসিডের সঙ্গে একটি অক্সিডেন্ট ও অপর এক এসিড যুক্ত করে রাসায়নিক মিশ্রণ তৈরি করেন। এই মিশ্রণে বৈদ্যুতিক বর্জ্য রাখা হলে সেখান থেকে দ্রুত সোনা আলাদা হয়ে যায়। আর এতে পরিবেশেরও তেমন ক্ষতিও হয় না।
গবেষকরা বলেন, বর্তমানে বৈদ্যুতিক বর্জ্য থেকে সোনা আলাদা করার পদ্ধতিটি বেশ জটিল এবং এটি বেশ ব্যয়বহুলও বটে। বর্তমান পদ্ধতিতে বর্জ্য থেকে সোনা আলাদা করতে অ্যাকোয়া রেজিনা (নাইট্রিক ও হাইড্রোক্লোরিক এসিডের মিশ্রণ) ব্যবহার করা হয়। পাঁচ হাজার লিটার অ্যাকোয়া রেজিনা ব্যবহার করে এক কেজি সোনা আলাদা করা যায়।
তবে গবেষকদের নতুন রাসায়নিক মিশ্রণ ব্যবহার করে অল্প খরচেই সোনা তৈরি সম্ভব। বৈদ্যুতিক বর্জ্য থেকে এক কেজি সোনা আলাদা করতে প্রয়োজন পড়ে মাত্র ১০০ লিটার নতুন রাসায়নিক মিশ্রণ। আর প্রতি লিটার এই মিশ্রণ তৈরিতে খরচ হয় মাত্র ৪০ টাকা (৫০ সেন্ট)।
গবেষক বলেন, বৈদ্যুতিক বর্জ্য থেকে সোনা তৈরির পদ্ধতি বেশ সরল। এই পদ্ধতিতে সর্বনিম্ন সময়ের মধ্যে সোনা আলাদা হয়। একই সঙ্গে এই পদ্ধতির খরচ কম এবং পরিবেশবান্ধবও বটে। তাই একে বলা যায়, নতুন এক সোনার খনি।
কানাডার গবেষকরা বলেন, এরই মধ্যে নতুন রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে বড় পরিসরে সোনা আলাদা করার পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চলছে।