মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্তের ঘোষণা দিলেন বিজ্ঞানীরা

মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্ত করা গেছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই তরঙ্গের ওপর ভর করেই চলছে মহাবিশ্ব। পৃথিবীর ঘূর্ণন, গ্রহ নক্ষত্রের গতি সব কিছুই ঘটছে মহাকর্ষীয় তরঙ্গের কারণে। বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী আইনস্টাইন তাঁর আপেক্ষিকতা তত্ত্বেই এই তরঙ্গ সম্পর্কে ধারণা দিয়েছিলেন। মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্ত করার মাধ্যমে আইনস্টাইনের তত্ত্ব নির্ভুল প্রমাণিত হলো।
গবেষকদের মতে, তখনই মহাকর্ষীয় ত্বরণ সৃষ্টি হয়, যখন মহাবিশ্বে বড় কোনো ঘটনা ঘটে। কোনো তারকার বিস্ফোরণে যেমন মহাকর্ষীয় ত্বরণ সৃষ্টি হতে পারে। তেমনি দুটি কৃষ্ণগহ্বরের মধ্যে সংঘর্ষেও এই তরঙ্গ সৃষ্টি হয়।
হাজার কোটি আলোকবর্ষ দূরের দুটি কৃষ্ণগহ্বরের সংঘর্ষ ও এ থেকে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ সৃষ্টি নিয়ে গবেষণা করেন ‘লিগো প্রজেক্ট’ নামক বিশ্বের পদার্থ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জোট। আর এই গবেষণায় ব্যবহার হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত লিগোর মহাকর্ষীয় ত্বরণ শণাক্তকরণ গবেষণাগার। এ-সংক্রান্ত গবেষণা নিবন্ধটি প্রকাশ করেছে বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার্স’। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে লিগো প্রজেক্টের নির্বাহী পরিচালক ডেভিড রিটজ মহাকর্ষীয় তরঙ্গের শনাক্তে তাঁদের সফলতার কথা জানান।
মহাকর্ষীয় তরঙ্গ খুবই সংক্ষিপ্ত এবং ইনফেরোমিটার নামক শক্তিশালী যন্ত্র এর শনাক্তকরণে ব্যবহার হয়। তবে দুটি কৃষ্ণগহ্বরের সংঘর্ষে সৃষ্ট মহাকর্ষীয় ত্বরণ শনাক্তে ব্যবহার হয় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত লিগোর সুবিশাল স্থাপনা।
গবেষকরা বলেন, দুটি কৃষ্ণগহ্বরে সংঘর্ষে সূর্যের ভরের তিনগুণ মহাকর্ষীয় তরঙ্গ নির্গত হয়েছে। পানির মধ্যে ঢেউ যেভাবে আন্দোলিত হয়ে যায় একইভাবে মহাকর্ষীয় ত্বরণ ছড়িয়ে পড়ছে মহাবিশ্বে। আর মহাকর্ষীয় ত্বরণের গতি আলোর গতির সমান।
আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো মহাকর্ষীয় ত্বরণ। প্রায় ১০০ বছর আগে ওই তত্ত্ব দেওয়া হলেও আধুনিক যন্ত্রে এই প্রমাণ পেলেন গবেষকরা। তবে আইনস্টাইনের তত্ত্বের একটি বিষয়ে কিছুটা ব্যতিক্রম পেয়েছেন গবেষকরা। তিনি বলেছিলেন মহাকর্ষীয় ত্বরণ এতাটাই দুর্বল হবে যে একে শনাক্ত করা সম্ভব নাও হতে পারে।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, মহাকর্ষীয় তরঙ্গ আবিষ্কার হওয়ায় আমরা মহাবিশ্বকে এখন থেকে ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ পাব। মহাবিশ্বের এমন অংশ এখন দেখা সম্ভব হবে যা পূর্বে শক্তিশালী টেলিস্কোপেও সম্ভব ছিল না। অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন, এখন আমরা কৃষ্ণগহ্বরের মধ্যেও যেতে সক্ষম হব। একইভাবে অনেক পিছনের ঘটনাও দেখা সম্ভ হতে পারে। এমনকি বিগ ব্যঙ নিয়ে গবেষণা সম্ভব হতে পারে।
মহাকষীয় ত্বরণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারটি হবে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কাজের পদ্ধতি জানার গবেষণায়। একই সঙ্গে এমন কোনো তত্ত্ব দেওয়া সম্ভব হবে যা প্রকৃতির সব কাজের পদ্ধতির ব্যাখ্যা দেয়।