২০২০ সালের মধ্যে মঙ্গলে পৌঁছাতে চায় চীন

২০২০ সালের মধ্যে মঙ্গল গ্রহে নিজেদের প্রথম মহাকাশযান অবতরণ করাতে চায় চীন। চীনের মহাকাশ গবেষণা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
চীনের ন্যাশনাল স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এর পরিচালক জু দাজে গত শুক্রবার দেশটির রাজধানী বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
সংবাদ সম্মেলনে জু দাজে জানান, এত স্বল্প সময়ের মধ্যে মঙ্গল অভিযান সফল করাটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন তাঁরা।
জু দাজে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রথমে মঙ্গলের কক্ষপথে পৌঁছানো, তারপর মঙ্গলে মহাকাশযানটি নিরাপদে অবতরণ করানো এবং অন্তত একটা মঙ্গল মিশন সফলভাবে শেষ করা। এত অল্প সময়ে এটা অর্জন করা খুবই কঠিন হবে।’
চীনের মঙ্গল গবেষণার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জু দাজে বলেন, ‘চীনা মহাকাশযানের প্রথম লক্ষ্য থাকবে মঙ্গলের মাটি পরীক্ষা করা, গ্রহটির পরিবেশ ও প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া এবং পানির উৎস খুঁজে বের করা।’
জু দাজে আরো বলেন, ‘মঙ্গলের পরিবেশ, মাটি ও পানির উৎস নিয়ে গবেষণা করার মাধ্যমে আমরা মূলত মানবতা ও মানুষের উৎস নিয়েই গবেষণা করব। মঙ্গলযাত্রা সফল হলে সেটাই হবে মহাকাশ গবেষণায় চীনের সবচেয়ে বড় সাফল্য।’
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মহাকাশ গবেষণা, বিশেষ করে মঙ্গল গ্রহবিষয়ক গবেষণার কাজ করে যাচ্ছে এশিয়ার দেশ চীন।
তবে এ ক্ষেত্রে এশিয়ার আরেক দেশ ভারতের থেকেও পিছিয়ে রয়েছে চীন। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে মঙ্গলের কক্ষপথে একটি সফল অভিযান চালাতে সক্ষম হয়েছিল ভারত।
চীনের সাম্প্রতিক সময়ের মহাকাশ গবেষণার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল চাঁদ। ২০১৪ সালে চীনের প্রথম মহাকাশযান চাঁদে অবতরণ করে। এই মহাকাশযানটির নাম ‘ইউতু’। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পরবর্তীতে এটি বিকল হয়ে যায়।
আবারও নতুন করে চন্দ্রাভিযান শুরু করতে যাচ্ছে চীন। ২০১৮ সালের মধ্যে চাঁদে আরেকটি মহাকাশযান অবতরণের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে তারা।
চীনের নতুন এই মহাকাশযানের নাম রাখা হয়েছে ‘চ্যাঙ্গে-৪’। চীনা পুরাণে চাঁদের দেবীকে বলা হয় ‘চ্যাঙ্গে’। আর সেই দেবীর নামানুসারেই রাখা হয়েছে এই মহাকাশযানের নাম।