কুয়াকাটা সমুদ্রের নোনা জলে গা ভাসিয়ে আনন্দে মেতেছে পর্যটকরা

ঈদের দ্বিতীয় দিনেই পর্যটকের স্রোতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পটুয়াখালীর সাগরকন্যা কুয়াকাটা। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল থেকে সৈকতে পর্যটকদের ঢল নামে, যা পুরো এলাকাকে উৎসবমুখর করে তুলেছে।
পর্যটকদের অনেকেই সমুদ্রের নোনা জলে গা ভাসিয়ে আনন্দে মেতে উঠেছেন। কেউ সেলফি তুলে স্মৃতির পাতায় রাখছেন, কেউবা ঘুরে দেখছেন সমুদ্রতীরের অপরূপ সৌন্দর্য। গঙ্গামতি, লেম্বুর বন, ঝাউবন, ফাতরার বন ও শুটকি পল্লীসহ কুয়াকাটার প্রতিটি পর্যটন স্পটে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে উচ্ছ্বসিত কুয়াকাটার ব্যবসায়ীরা। বেঞ্চ ব্যবসায়ী আলামীন বলেন, ‘ঈদের লম্বা ছুটির কারণে এবার প্রচুর পর্যটক এসেছে, যা আমাদের জন্য আশীর্বাদ। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পর্যটক হচ্ছে প্রাণ।’
পায়রার রেস্টুরেন্টের মালিক মিরাজ বলেন, ‘দীর্ঘ সময় পরে কুয়াকাটাতে পর্যটক এসেছে। আমরাও বিভিন্ন ধরনের খাবার প্রস্তুত রেখেছি। পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা তাদের সেবা দিয়ে থাকি।’
হোটেল মিয়াদের মালিক ইব্রাহিম জানান, রমজানের কারণে তেমন পর্যটক আসেনি। তবে ঈদ উপলক্ষে পর্যটক আসতে শুরু করেছে। আমাদের ৮০ শতাংশ রুম ইতোমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে।’
ঢাকা থেকে আগত পর্যটক মো. নাইম ইসলাম বলেন, ‘এই প্রথমবার কুয়াকাটা আসলাম, আর এসে দারুণ লেগেছে। পরিবেশ অনেক সুন্দর, স্থানীয়দের আতিথেয়তা চমৎকার। তবে ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কটি ফোর লেনে উন্নীত হলে আরও বেশি পর্যটক আসবে।’
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি মো. মোতালেব শরীফ বলেন, ‘আজ পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে, আরও বাড়বে। অধিকাংশ হোটেলের ৮৫ শতাংশ রুম আগেই বুকিং হয়ে গেছে। আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করছি। সরকারি দীর্ঘ ছুটির ফলে এবার প্রায় ৯ লাখ পর্যটকের আগমন হতে পারে।’
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ শাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, ‘সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বিক নজরদারি চলছে।’
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘লম্বা ছুটির কারণে ব্যাপক পর্যটকের সমাগম হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, মহিপুর থানা পুলিশ ও পৌরসভা সার্বক্ষণিক কাজ করছে। আশা করা যাচ্ছে, এবারের ঈদে কুয়াকাটা পর্যটকদের মিলনমেলায় পরিণত হবে।’