Beta

শ্রীলঙ্কায় শোক দিবস আজ, নিহতের সংখ্যা তিন শতাধিক

২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১১:৫৬

অনলাইন ডেস্ক
শ্রীলঙ্কায় গত রোববার গির্জা ও হোটেলে সিরিজ বোমা হামলায় নিহতদের মঙ্গলবার সমাধিস্থ করার কাজ শুরু হয়। ছবি : রয়টার্স

শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৩১০ জন হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে ওই তথ্য জানানো হয়। শ্রীলঙ্কার পুলিশের বরাত দিয়ে ওই খবর জানানো হয়।

সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, বোমা হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের সবাই শ্রীলঙ্কান।

গত রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় গির্জা ও হোটেলে সব মিলিয়ে আটটি বিস্ফোরণ ঘটে। ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা গির্জায় থাকা অবস্থায় বিস্ফোরণগুলো ঘটে।

হামলাকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ভুল তথ্য বা গুজব ছড়াতে না পারে, সে জন্য দেশটিতে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বর্তমানে বন্ধ রাখা হয়েছে।

দেশটির পর্যটনমন্ত্রী জন আমারতুঙ্গা জানান, নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩৯ বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান, পর্তুগাল ও যুক্তরাষ্ট্র ওই হামলায় নিজেদের নাগরিক নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে। নিহতদের পরিচয় একে একে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে।

পুলিশের এক মুখপাত্র রুভান গুনাসেকেরা বলন, কোন জায়গায় কতজন নিহত হয়েছেন, তা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। 

গির্জা ও হোটেলে ওই হামলার ঘটনায় আজ শ্রীলঙ্কায় জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। বোমা হামলায় নিহতদের আজ সমাধিস্থ করা হচ্ছে। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় তিন মিনিটের নীরবতার মধ্য দিয়ে মরদেহ সমাধিস্থ করার কাজ শুরু হয়। 

শ্রীলঙ্কার পশ্চিম প্রদেশের নেগম্বো, পূর্ব প্রদেশের বাট্টিকালো এবং রাজধানী কলম্বোর গির্জাগুলোতে বোমা হামলা চালানো হয়। এ ছাড়া কলম্বোর তিনটি পাঁচতারকা হোটেল সাংরি-লা, কিংসবুরি, সিনামন গ্র্যান্ডসহ আরেকটি আবাসিক হোটেলে হামলা হয়।

সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম সংগঠন ন্যাশনাল তৌহিদ জামাতকে (এনটিজে) দায়ী করছে শ্রীলঙ্কার সরকার। গতকাল সোমবার শ্রীলঙ্কা সরকারের মুখপাত্র রাজিথা সেনারত্নে বলেন, ‘সরকার বিশ্বাস করে ন্যাশনাল তৌহিদ জামাত (এনটিজে) এ হামলায় নেপথ্যে রয়েছে।’

শ্রীলঙ্কার মন্ত্রী রাজিথা সেনারত্নে আরো বলেছেন, ‘স্থানীয় সংগঠনটির কোনো আন্তর্জাতিক যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি না যে দেশের এমন একটি ছোট সংগঠন একাই এতবড় হামলা চালাতে পারে।’

রাজিথা সেনারত্নে আরো বলেন, ‘আমরা এখন তদন্ত করে দেখছি, তাদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার বিষয়গুলো খোঁজা হচ্ছে। তারা কীভাবে দেশে আত্মঘাতী হামলাকারী পেল এবং এই বোমাগুলোই বা কোথায় পেল।’

এদিকে প্রেসিডেন্ট মৈথ্রিপালা সিরিসেনাও এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের যোগাযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’    

অন্যদিকে স্থানীয় সংগঠনের জড়িত থাকার ব্যাপারে কিছু তথ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে।

এর আগে গত ১১ এপ্রিল একটি ‘বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা’ স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে সতর্কবার্তা দেয়। তবে  বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাটি কোন দেশের, তা জানা যায়নি।

Advertisement