Beta

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি ভেঙে নির্মিত হচ্ছে সরকারি স্থাপনা

১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:১৯ | আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৫৪

অনলাইন ডেস্ক
মিয়ানমারের রাখাইনের হ্লা পো কং ট্রানজিট শিবির। বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে অবস্থান নেওয়া রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে মিয়ানমারে ফেরত নেওয়ার পর এখানে রাখা হবে। ছবি : সংগৃহীত

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ফেলে আসা গ্রামগুলোর সব ঘরবাড়ি ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে, সেখানে পুলিশ ব্যারাক, প্রশাসনিক ভবন ও শরণার্থী পুনর্বাসনের মতো সরকারি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

দেশটির সরকারের তত্ত্বাবধানে বিবিসির সাংবাদিকদের চারটি শরণার্থী পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেখানে একসময় রোহিঙ্গা মুসলমানদের ঘরবাড়ি ছিল। এখন সেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য শরণার্থী পুনর্বাসন ক্যাম্প এবং পুলিশ ব্যারাকসহ প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে মিয়ানমারের কর্মকর্তারা রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর ভাঙার বিষয়টি অস্বীকার করছেন। বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

পুলিশি পাহারায় পরিদর্শনকারী বিবিসি সাংবাদিকরা জানান, রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে এসব গ্রাম থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে তার শক্ত প্রমাণ এখানে রয়েছে।

২০১৭ সালে স্থানীয় বৌদ্ধদের সঙ্গে নিয়ে সামরিক বাহিনীর অভিযানে বিধ্বস্ত গ্রামগুলোর মধ্যে ৪০ শতাংশই এখন নতুন করে ধ্বংস করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউট ওইসব গ্রামের স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানায়।

এর আগে ২০১৭ সালের সেম্টেম্বরে বিবিসির সাংবাদিক জনাথন হেড একইভাবে সরকারি বাহিনীনিয়ন্ত্রিত মরাখাইনের মংডু জেলার মিও থু গি গ্রামে যান। গ্রামটির ভিডিও করেন তিনি। তাতে যেসব পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি দেখা যায়, সেগুলো এখন নেই। গাছপালার দৃশ্যের মিল থাকলেও এখন সেখানে জায়গা পেয়েছে বড়সড় দুটি কমপ্লেক্স। একটি প্রশাসনিক, আরেকটি পুলিশের।

মিয়ানমারের রাখাইনের ইন দিন গ্রাম। এখন এখানে নির্মাণ করা হয়েছে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষা বাহিনীর ব্যারাক আর রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য পুনর্বাসন শিবির। ছবি : সংগৃহীত

এরপর সাংবাদিকদেরকে রাখাইনের হ্লা পো কং ট্রানজিট শিবিরে নেওয়া হয়। জায়গাটি ২০১৭ সালে সহিংসতার সময় ধ্বংস হওয়া হ রি তু লার ও থর জে কোন গ্রামের পাশে অবস্থিত। বছর খানেক আগেই এর নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো তা ব্যবহার হয়নি। মিয়ানমার সরকারের দাবি, এটির ধারণক্ষমতার ২৫ হাজার এবং প্রত্যাবাসনে আসা রোহিঙ্গারা সেখানে দুই মাস থাকার পর স্থায়ী ঘরবাড়িতে যেতে পারবে।

তবে মিয়ানমার সরকারের এমন বক্তব্যে আস্থা নেই রোহিঙ্গাদের। তাদের ধারণা, ফিরে গেলে এসব শিবিরেই জীবন পার করতে হতে পারে।

সামরিক বাহিনীর হামলার আগে রাখাইন রাজ্যের ইন দিন গ্রামটির তিন-চতুর্থাংশ মুসলমান ছিল। এখন সেখানে মুসলমানদের চিহ্নও নেই। সরকারি ভবনের এলাকাগুলো নিরব নিস্তব্ধ। তবে রোহিঙ্গাদের জন্য নির্মিত পুনর্বাসন কেন্দ্রের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া। বানানো হয়েছে সীমান্তরক্ষা বাহিনীর বড় বড় ব্যারাক।

এদিকে মিয়ানমার সব সময় রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলে আসলেও গত মাসে দ্বিতীয়বারের মতো ব্যর্থ হয় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন উদ্যোগ। মিয়ানমারের তালিকা দেওয়া ৩ হাজার ৪৫০ জন রোহিঙ্গা সেখানে ফিরে যেতে চাননি। তাঁদের আশংকা, মিয়ানমারে ফিরে গেলে স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও নাগরিকত্বের অধিকার পাবেন না তাঁরা ।

স্থানীয় বৌদ্ধরা পরিদর্শনকারী সাংবাদিককে বলেন, তাঁরা আর কখনোই মুসলমানদেরকে তাঁদের প্রতিবেশী হিসেবে মেনে নেবেন না।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও স্থানীয় বৌদ্ধদের যৌথ হামলার মুখে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। জাতিসংঘ এ ঘটনাকে ‘গণহত্যার প্রামাণ্য উদাহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করে আসছে।

Advertisement