হামাসের ফেরত দেওয়া মৃতদেহটি শিরি বিবাসের নয়, দাবি ইসরায়েলের

পণবন্দি হিসেবে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের হাতে থাকা শিরি বিবাসের মৃতদেহ ফেরত দিতে ব্যর্থতার জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আজ শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) তিনি বলেছেন, এর জন্য হামাসকে সর্বোচ্চ মূল্য দিতে হবে। খবর এএফপির।
গাজা উপত্যকায় প্রায় ভেঙে পড়া যুদ্ধবিরতির মুখে গতকাল বৃহস্পতিবার হামাস তাদের হাতে থাকা চার জিম্মির মৃতদেহ হস্তান্তর করে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে। এ সময় হামাস জানায় চারটি মৃতদেহের মধ্যে রয়েছে অল্পবয়সী দুই সন্তানসহ তাদের মা শিরি বিবাস। এর আগে এ মাসের শুরুতে ওই শিশুদের বাবাকে মুক্তি দিয়েছিল হামাস। তবে শিরি বিবাস নামে যে মরদেহটি পাঠানো হয়েছে তা তার নয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। আজ শুক্রবার ইসরায়েল জানায় শিরি বিবাসের নামে পাঠানো মরদেহটি গাজার একজন নারীর।
এ ঘটনার পরপর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামাসকে ‘নিষ্ঠুর ও নিকৃষ্ট’ কাজের জন্য দায়ী করে বলেছেন, ইসরায়েলি ওই মায়ের মরদেহ ফেরত দেওয়ায় ব্যর্থতাকে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হবে। নেতানিয়াহু বলেন, ‘তারা ইয়ারডেন বিবাস নামে শুধু ওই বাবাকেই অপহরণ করেনি, অকল্পনীয় বিভৎস ঘটনা হিসেবে শিরি বিবাস নামে দুই সন্তানের মাকে তাদের সন্তানসহ অপহরণ করে। তারা শিরি বিবাসের মরদেহ ফেরত দিতে পারেনি, তার পরিবর্তে গাজার একজন নারীর মরদেহ কফিনে করে পাঠিয়ে দিয়েছে।’
নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘শিরিকে বাড়ি ফেরাতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, পাশাপাশি সব বন্দিকেও ফেরানো হবে, জীবিত বা মৃত যেভাবে হোক। হামাসকে নিষ্ঠুর ও অশুভভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য চরম মূল্য দিতে হবে।’

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আভিসে আদরাই টেলিগ্রামে এক বার্তায় অভিযোগ করেছেন, আরিয়েল ও কেফির নামে শিরি বিবাসের দুই সন্তানকে ফিলিস্তিনি ‘সন্ত্রাসীরা’ ২০২৩ সালের নভেম্বরে হত্যা করেছে।
তবে হামাস বলেছে যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় দুই সন্তানসহ শিরি বিবাস মারা গেছেন।