রমজানে আল-আকসায় প্রবেশে বিধিনিষেধ দেবে ইসরায়েল

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করবে ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মুসলমানদের পবিত্রতম স্থান আল-আকসা প্রাঙ্গণে কথিত এই নিরাপত্তা বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দেয় দেশটি। খবর এএফপির।
ইসরায়েলি সরকারের মুখপাত্র ডেভিড মেনসার এক অনলাইন বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো জননিরাপত্তার জন্য প্রচলিত বিধিনিষেধ বহাল থাকবে।’
রমজান উপলক্ষে লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি আল-আকসা মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসেন। এটি ইসরায়েল দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত। গত বছর গাজা যুদ্ধে পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আল-আকসায় প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেছিল। বিশেষ করে, পশ্চিম তীর থেকে আগত ফিলিস্তিনিদের ওপর। তবে গত বছরের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। এবার এমন একটি সময় রমজান শুরু হতে যাচ্ছে, যখন ইসরায়েল ও হামাস যুদ্ধবিরতিতে রয়েছে। তবুও আল আকসায় প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানের কথা জানান দিল দেশটি।
বিধিনিষেধের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না জানালেও গত বছরের মতোই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখপাত্র ডেভিড মেনসার। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কিছু সহ্য করব না, যা অন্যদের ওপর সহিংসতা ও হামলার উসকানি দেয়, যেমনটি কোনো দেশই করবে না।’

গত বছর শুধু ৫৫ বছরের ঊর্ধ্বে পুরুষ ও ৫০ বছরের বেশি বয়সী নারীদেরই মসজিদ চত্বরে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল ইসরায়েলি সরকার। এমনকি নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে জেরুজালেম শহরে হাজার হাজার ইসরায়েলি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।
আল-আকসা মসজিদ কমপ্লেক্স ফিলিস্তিনিদের জাতীয় পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এটি ইহুদিদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ স্থান, কারণ তারা বিশ্বাস করে এখানে তাদের দ্বিতীয় মন্দির (সেকেন্ড টেম্পল) অবস্থিত ছিল, যা ৭০ খ্রিস্টাব্দে রোমানদের হাতে ধ্বংস হয়েছিল। তবে পূর্বের চুক্তি অনুসারে, ইহুদিরা এই স্থানে প্রবেশ করতে পারলেও প্রার্থনা করতে পারে না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চরমপন্থি ইহুদি জাতীয়তাবাদীরা এই নিয়ম অমান্য করে আল-আকসায় প্রবেশ ও প্রার্থনা করছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিলেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি রাজনীতিক ইতামার বেন-গভির। তিনি ২০২৩ ও ২০২৪ সালে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী থাকার সময় সেখানে প্রকাশ্যে প্রার্থনা করেন।
ইসরায়েলি সরকার বলছে, তারা আল-আকসার স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখবে। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা আশঙ্কা করছে, ইসরায়েল সেখানে নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করবে।