Beta

অমর একুশে গ্রন্থমেলার সময় বাড়ল ২ দিন

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:১৭ | আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:১৭

ফিচার ডেস্ক

আজ ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিনে পর্দা নামেনি অমর একুশে গ্রন্থমেলার। মেলার সময় বেড়েছে দুদিন।

বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রন্থমেলা শেষ হবে আগামী ২ মার্চ শনিবার।

এবার বেড়েছে মেলার পরিসর, প্রকাশনা সংস্থার অংশগ্রহণ। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মিলিয়ে এবার গ্রন্থমেলার বিস্তৃতি ছিল ২৫ হাজার বর্গফুট। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলার অংশকে এবার চারটি চত্বরে বিন্যস্ত করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে ৪৯৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৭০টি ইউনিট এবং বাংলা একাডেমিসহ ২৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ২৪টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০৪টি প্রতিষ্ঠান ১৫০টি ইউনিট নিয়ে তাদের বইয়ের পসরা সাজিয়ে বসে। আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৬২০টি ইউনিট নিয়ে হয় ৩৯৫টি প্রতিষ্ঠানের স্টল।

বিগত বইমেলাগুলোতে ধুলোর যে সমস্যা, এবার সেটি কম ছিল। মেলার অন্যান্য ব্যবস্থাও ছিল আগেরবারের চেয়ে ভালো। স্টলবিন্যাসে পরিবর্তন আসায় দর্শনার্থীরা নির্বিগ্নে হাঁটাচলা করতে পেরেছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেনি। তবে শেষের দিকে বৃষ্টির কারণে মেলার ছন্দপতন ঘটে। গতকাল মাত্র ঘণ্টাদেড়েক খোলা ছিল বইমেলা, বাকিটা সময় ছিল বৃষ্টিকবলিত। 

এবারের গ্রন্থমেলার প্রতিপাদ্য ছিল ‘বিজয় : ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ নবপর্যায়’। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভকে মেলা প্রাঙ্গণের ভেতরে রাখার সিদ্ধান্তটিও যথার্থ বলে মনে করেছেন দর্শনার্থীরা। স্বাধীনতা স্তম্ভের আলোক বিচ্ছুরণে মেলা প্রাঙ্গনের আলোকিত হওয়ার দৃশ্যটি তারা উপভোগ করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন।

এবারের মেলার অভিনব সংযোজন ছিল ‘লেখক বলছি মঞ্চ’। এত দিন মেলাটি ছিল প্রকাশকদের বাণিজ্যের জায়গা। লেখকদের নিজেদের কথা বলার কোনো মঞ্চ ছিল না। বিশেষ করে তরুণ লেখকদের। বইমেলায় লেখক-পাঠকের এ ধরনের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ঘটানোর আরো পন্থা অবলম্বন করা উচিত বলে জানিয়েছেন অংশগ্রহণকারী লেখকরা। মেলার শেষ দিনে এ মঞ্চের অতিথি হয়ে আসেন কথাসাহিত্যিক

সাগুফতা শারমিন তানিয়া, প্রাবন্ধিক সলিমুল্লাহ খান, প্রাবন্ধিক সুমন রহমান, কবি মিছিল খন্দকার ও কবি নাহিদা আশরাফি। এ নিয়ে এ বছর ১৩৪ জন লেখক এ মঞ্চে আসেন। তারা কথা বলেন তাদের সদ্য প্রকাশিত বই নিয়ে। সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির লেখক-কর্মকর্তারা।

তবে এবারও মেলায় দেখা গেছে শেষ মুহূর্তে মেলা প্রাঙ্গণের কাজগুলো গোছাতে। মেলার দশম দিন পর্যন্ত কোথাও কোথাও ইট বিছানোর দৃশ্য চোখে পড়েছে। মাঝে মাঝে বসার জন্য কিছু বেঞ্চ থাকলে বয়স্ক মানুষদের কিংবা যারা শিশুদের কোলে নিয়ে হাঁটাচলা করেন তারা বিশ্রাম নিয়ে নিতে পারতেন বলে আগত পাঠক-ক্রেতারা জানিয়েছেন। বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণে বহেরা তলার লিটল ম্যাগাজিন চত্বরটি সৌহরাওয়ার্দী প্রাঙ্গণে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন লিটলম্যাগ কর্মীরা। ১৮০টি লিটল ম্যাগাজিনকে ১৫৫টি স্টল দেওয়া হয়েছে এবার। এ সংখ্যা ও নির্বাচন নিয়েও তাদের আপত্তি ছিল। ‘শিশু চত্বর’ খুব অল্প জায়গা নিয়ে হয়েছে। শিশুদের ছুটোছুটির কোনো জায়গা নেই ভেতরে। আরেকটু বিস্তৃত হলে ভালো হয় বলে জানিয়েছেন শিশুদের সঙ্গে আসা মা-বাবারা।

নতুন বই

আজ নতুন বই এসেছে ১৫১টি। সব মিলে ২০১৯ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় নতুন বইয়ের সংখ্যা দাঁড়াল চার হাজার ৫০০। গল্প-উপন্যাস-কবিতা-প্রবন্ধ-অনুবাদ-শিশুসাহিত্য সব ধরনের বই আছে এ তালিকায়। বাংলা একাডেমির হিসাবে, ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাহিত্যের জনরা অনুযায়ী বই জমা পড়েছে: গল্প ৫৪৭টি, উপন্যাস ৫১৩টি, প্রবন্ধ ১৯০টি, কবিতা ১০৭৫টি, গবেষণা ৫৩টি, ছড়া ৮১টি, শিশুতোষ ৮৯টি, জীবনীগ্রন্থ ১১৭টি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ ৮৪টি, অনূদিত বই ২৮টি এবং বাকিগুলো অন্যান্য।

Advertisement