Beta

‘রোহিঙ্গা আলোকচিত্র’, নির্যাতনের এক শাশ্বত দলিল

২২ আগস্ট ২০১৯, ২১:৪০ | আপডেট: ২২ আগস্ট ২০১৯, ২১:৪৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
‘রোহিঙ্গা আলোকচিত্র’ বই হাতে সিনিয়র ফটো সাংবাদিক সানাউল হক, কবি হেলাল হাফিজ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (একাংশ) সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ। ছবি : সংগৃহীত

পেছনে সহিংসতার তাড়া, সামনে অনিশ্চয়তা—এ দুই উদ্বেগে ভরা রোহিঙ্গা নারী–শিশু–যুবারা সহায়-সম্পদ, ঘরবাড়ি এমনকি স্বজনকে ফেলে কাঁটা তারের বেড়া পেরিয়ে জীবন নিজের জীবন রক্ষায় পাড়ি জমায় বাংলাদেশে। সেসব অসহায় মানুষের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত হামলার ছবি নাড়া দেয় বিশ্ব বিবেককে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ সরকার তাদের আশ্রয় দেয়। 

রোহিঙ্গা সেসব অসহায় মানুষের হৃদয়বিদারক ছবি নিজ ক্যামেরায় ধারণ করেছেন সিনিয়র ফটো সাংবাদিক, জাতীয় প্রেসক্লাবের বর্তমান নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সানাউল হক। নিজের ক্যামেরায় ধারণ করা সেসব ছবি মলাটবদ্ধ করে ‘রোহিঙ্গা আলোকচিত্র’ নামের একটি বই প্রকাশ করেছেন তিনি। বইটি নিঃসন্দেহে ইতিহাসের পাতায় নির্মম রোহিঙ্গা নির্যাতনের শাশ্বত দলিল হয়ে থাকবে।

আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তাঁর তোলা আলোকচিত্র নিয়ে একটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা হলো পশ্চিম মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি রাষ্ট্রবিহীন ইন্দো-আর্য জনগোষ্ঠী। রোহিঙ্গাদের ঐতিহাসিকভাবে আরাকানি ভারতীয়ও বলা হয়ে থাকে। মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের আগে অনুমানিক এক মিলিয়ন রোহিঙ্গা মিয়ানমারে বসবাস করত। অধিকাংশ রোহিঙ্গা ইসলাম ধর্মাবলম্বী, তবে কিছুসংখ্যক হিন্দু ধর্মের অনুসারীও রয়েছে। ২০১৩ সালে জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের বিশ্বের অন্যতম নিগৃহীত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করেছে। কারণ ১৯৮২ সালের বার্মিজ নাগরিকত্ব আইন অনুসারে তাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করে মিয়ানমার। বছরের পর বছর ধরে নিজ জন্মভূমি রাখাইনে অমানবিক নির্যাতন সইতে না পেরে  রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে শরণার্থী শিবিরে বাস করতে বাধ্য হয় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা জনগণ।

বর্তমানে ১১ বাংলাদেশে  লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। তাদের বেশির ভাগই মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর বর্বর অভিযান থেকে জীবন বাঁচাতে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। কারণ ওই সময় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় গ্রামের পর গ্রামের বাড়িঘর পোড়ানোর তাণ্ডব আর গণহত্যায় মত্ত হয়ে পড়ে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ সম্প্রদায়। তারা গুলি করে হত্যা এবং পুড়িয়ে মারে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নর-নারীসহ যুবক-যুবতী ও শিশুকে।

Advertisement