মেলার ২৬তম দিনে এসেছে ১৬৬ নতুন বই

অমর একুশে বইমেলার ২৬তম দিনে নতুন বই এসেছে ১৬৬টি। এদিন মেলা শুরু হয় বিকেল ৩টায়, চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। এর মধ্যে গল্পের বই ১৮টি, উপন্যাস ১৫টি, প্রবন্ধ ১০টি, কবিতা ৬৮টি, গবেষণা চারটি, ছড়া চারটি, শিশুসাহিত্য একটি, জীবনী একটি, মুক্তিযুদ্ধ একটি, নাটক একটি, বিজ্ঞান তিনটি, ভ্রমণ ছয়টি, ইতিহাস তিনটি, রাজনীতি তিনটি, স্বাস্থ্য একটি, ভাষা দু’টি, গণঅভ্যুত্থান তিনটি, ধর্মীয় ১১টি, অনুবাদ দু’টি, অভিধান দু’টি, সায়েন্স ফিকশন একটিসহ অন্যান্য বই রয়েছে ছয়টি।
গতকাল বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এদিন বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘জুলাই প্রজন্ম ও প্রযুক্তি: নতুন সামাজিক বন্দোবস্তের খোঁজে’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সামিনা লুৎফা নিত্রা। আলোচনায় অংশ নেন কল্লোল মোস্তফা এবং এহ্সান মাহমুদ। সভাপতিত্ব করেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
প্রাবন্ধিক বলেন, বাংলাদেশের তরুণরা চব্বিশের জুলাই থেকে তাদের প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, সংগ্রাম এবং রাজপথে রক্ত ঢেলে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তারা অসাধারণ চিন্তাশীল, প্রতিশ্রুতিশীল এবং উপলব্ধিশীল প্রজন্ম; যারা তাদের আশেপাশের বিশ্ব সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখেন। এই প্রজন্ম যে ঝুঁকিপূর্ণ ভবিষ্যতের মুখোমুখি হচ্ছে, সেই ভবিষ্যতের সমস্যাগুলো সমাধান করার জন্য তারা প্রস্তুত। এই প্রজন্মের তরুণরা জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন। ফলে প্রযুক্তির সঙ্গে এদের সম্পর্ক অনেক গভীর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শহুরে মধ্যবিত্ত তরুণদের সঙ্গে সব অঞ্চলের শিক্ষিত বা নিরক্ষর তরুণদের এক অভূতপূর্ব যোগাযোগের সেতু নির্মিত হয় যা জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে।
আলোচকরা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সবচেয়ে অগ্রগামী সৈনিক ছিলেন নতুন প্রজন্মের তরুণেরা। ফ্যাসিবাদী শক্তির পতনের পর দেশের বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করে দেশ গঠনের কাজে এগিয়ে এসেছেন তারা। ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই প্রযুক্তিনির্ভর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার দারুণ সম্ভাবনা ও সুযোগ করে দিয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার ওপর ভিত্তি করে নতুন সামাজিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রযুক্তিকে যথাযথাভাবে ব্যবহার করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম আমাদের যে নতুন বাংলাদেশের সম্ভাবনা উপহার দিয়েছেন তা জনপরিসরে সংহত করতে হবে। এই সংহতি তখনই টেকসই হবে যখন আমরা একটি নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক বন্দোবস্ত হাজির করতে পারব।
লেখক বলছি মঞ্চে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন- শিশুসাহিত্যিক ফরিদ সাঈদ এবং কবি এবিএম সোহেল রশীদ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি শ্যামল জাকারিয়া, মানব সুরত, এ বি এম সোহেল রশীদ, ইউসুফ রেজা, রোকন জহুর, জামিল জাহাঙ্গীর, ক্যামেলিয়া আহমেদ, আশিক আকবর, নুরতার পারভীন, জেসমিন বন্যা, সোহেল আমিন বাবু, রুহুল মাহবুব, মঈন মুরসালীন ও শাহ সিদ্দিক।
আজ বৃহস্পতিবার বইমেলার অনুষ্ঠান
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) অমর একুশে বইমেলার ২৭তম দিন। আজ মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায়, চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘বাংলাদেশ বিনির্মাণ: রাষ্ট্র কাঠামো’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন রেজাউল করিম রনি। আলোচনায় অংশ নেবেন সৈয়দ নিজার। সভাপতিত্ব করবেন কাজী মারুফ।