সীমান্তের তিন নদী দিয়ে জোয়ারের লবণাক্ত পানি ঢুকছে সাতক্ষীরায়

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্ত নদী ইছামতি, কালিন্দি ও খোলপেটুয়ার জোয়ারের পানি ঢুকছে সাতক্ষীরায়। এর ফলে কালিগঞ্জ উপজেলার হাড়দ্দহা বেড়িবাঁধ ধসে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ভাটার টানে এই পানি সরে গেলেও ফের জোয়ারে ডুবছে গ্রামগুলো।
সীমান্তের তিন নদীর মোহনার জোয়ারের পানিতে সয়লাব হয়ে যায় বিজিবির বসন্তপুর বিওপি। এ নদীর অপর পারে ভারতের হিঙ্গলগঞ্জ থানা এলাকা।
মথুরেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাইন বলেন, পানিতে সয়লাব হয়েছে হাড়দ্দহা, বসন্তপুর, চিংড়া, চাকদা, পাঁচপাড়া, হোসেনপুর, গনপতি, হোগোলডাঙ্গাসহ ১০টি গ্রাম। গ্রামবাসী বাঁধ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। সেখানে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতার।
ইউপি চেয়ারম্যান জানান, সব পুকুরের পানি এখন লবণাক্ত হয়ে পড়ায় সেখানে খাবার পানি এমনকি অজু করার পানিরও সংকট দেখা দিয়েছে।

এদিকে জেলার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের হরিশখালি, কুড়িকাহনিয়া ও বন্যতলা নেবুবুনিয়া পয়েন্ট দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করেছে। পানিতে প্রতাপনগর, কুড়িকাহনিয়া, কল্যাণপুর, শ্রীপুরসহ ১৮টি গ্রামের বাড়িঘরসহ সব স্থাপনা লবণাক্ত পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অসীম চক্রবর্তী জানান, সেখানে খাবার পানির অভাব দেখা দিয়েছে। মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। পুরো এলাকার মাছের ঘের লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। পানি সরানোর চেষ্টা করেও গ্রামবাসী ব্যর্থ হচ্ছে। ভাটার সময় বাঁধ বাধা হলে জোয়ারে তা ফের ধসে পড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন করেছে ওয়ার্কার্স পার্টি। আজ শনিবার দুপুরে শহরের মিনি মার্কেট চত্বরে আয়োজিত পার্টির জেলা সভাপতি মহিবুল্লাহ মোড়লের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট ফাহিমুল হক কিসলু, স্বপন কুমার শীল, আবিদুর রহমান প্রমুখ। তারা বলেন, টেকসই বাঁধ ছাড়া সাতক্ষীরার উপকূলের দুই উপজেলা শ্যামনগর ও আশাশুনির বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। অবিলম্বে টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তারা।