Beta

‘কীভাবে ওদের এই খবর দেব?’

১৭ মে ২০১৮, ২০:৫৬

নয়ন মুরাদ

মাত্র তিনদিন আগে দ্বিতীয় সন্তানের জনক হয়েছিলেন ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউনের কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন। মেয়ের নাম রেখেছিলেন ইশরাত জাহান নূর। নবজাতককে নিয়ে রাজধানীর দনিয়ায় আদ-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি আছেন নাজিমের স্ত্রী সাবরিনা ইয়াসমিন আইরিন। হাসপাতাল থেকেই অফিসের কাজে বেরিয়েছিলেন নাজিম উদ্দিন।

যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়ায় মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে বাসের চাপায় নিহত হন নাজিম উদ্দিন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে এ্ ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেলে ছিলেন নাজিম। তিনি ঢাকা ট্রিবিউন পত্রিকার বিজ্ঞাপন বিভাগের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ছিলেন।

অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর অসুস্থ নাজিমের স্ত্রীকে এমন দুঃসংবাদ দিতেও ভয় পাচ্ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। নাজিম উদ্দিনের শ্বশুর আরিফ হোসেন বলেন, ‘ছোট্ট শিশুটিকে নিয়ে আমার মেয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে। মাত্র দুদিন আগে সিজার হয়েছে। তাকে কীভাবে এই খবর দেব? আমার মেয়ে এই খবর সহ্য করতে পারবে না। কী হবে এই ছোট্ট মেয়েটার? কোনোদিন সে বাবা ডাকতে পারবে না!’

নাজিম উদ্দিনের বড় মেয়ে নুশরাত জাহান মিমের বয়স ৯ বছর। মিম খাওয়ার আগে সব সময় তার বাবাকে ফোন করে বলে, বাবা তুমি খেয়েছ? তারপর সে খায়। মাঝেমধ্যে বলে তুমি খাচ্ছো এমন ছবি তুলে পাঠাও। তারপর আমি খাব। এতটাই বাবা ভক্ত মেয়ে মিমি। আরিফ হোসেন বলেন, ‘ওরা কী করে এটা সহ্য করবে?’

আরিফ বলেন, ‘মেয়েকে এই মৃত্যু সংবাদ কীভাবে দেব? ওর মাকে বলেছি, মেয়েকে হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে আস। সেখানে লাশ দেখানোর সময় মৃত্যুর সংবাদ দিও।’

রাজধানীর শ্যামপুরের করিমোল্লাবাগ ২২৭/৩ ফরিদাবাদের ভাড়া বাসায় থাকেন নাজিম উদ্দিন ও তাঁর পরিবার। ভোলা জেলার লালমোহন থানার বালুরচর গ্রামে নাজিমের বাড়ি। চার বোন তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন তাঁর লাশ লালমোহনে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হবে।

নাজিম উদ্দিনকে উদ্ধার করে যারা হাসপাতালে নিয়ে আসেন, তাঁদের মধ্যে আলী নওয়াজ হোসাইন নামে এক ব্যক্তি জানান, যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া থেকে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে গুলিস্তানের দিকে যাচ্ছিলেন নাজিম উদ্দিন। তাঁর পেছনে একটি বাস ছিল। ফ্লাইওভারের ওপরে এক লেনের রাস্তা হলেও ওই বাসটি মোটরসাইকেলটিকে ওভারটেক করার চেষ্টা করছিল। একপর্যায়ে বাসটি মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে পড়ে গিয়ে চালক নাজিম উদ্দিন গুরুতর আহত হন।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মেহেদী হাসান শরীফ বলেন, ‘আমিও মোটরসাইকেলে করে ফ্লাইওভার দিয়ে আসছিলাম। উনি আমার সামনে ছিলেন। পিছন থেকে বাসে ধাক্কা মেরেছে। ধাক্কা মারার পর বাস ওভারটেক করে চলে যায়। এ সময় তিনি পড়ে যান। তখন উনার প্রচুর ব্লিডিং হচ্ছিল। সিএনজিতে উঠানোর সময় উনি শুধু একবার মুভ করেছে। এরপর চুপ হয়ে যান।’

দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে নাজিম উদ্দিনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ তাঁর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। তিনি জানান, নাজিমের পায়ে ও বুকে গুরুতর আঘাত ছিল। প্রচুর রক্ত ক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়।

নাজিম উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনায় দুটি বাস এবং ওই বাসের চালক ও চালকের সহকারীকে আটক করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক এ কথা জানান।

আটককৃতরা হলেন, শ্রাবণ পরিবহনের চালক মো. ওহিদুল (৩৫) এবং মঞ্জিল পরিবহনের চালকের সহকারী মো. কামাল (৩২)।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement