Beta

নাইকো দুর্নীতি মামলা

খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে শুনানি, বুধবার পর্যন্ত মুলতবি

০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৪:২৭ | আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৬:০৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
নাইকো দুর্নীতি মামলার হাজিরার জন্য বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে আজ বৃহস্পতিবার কারাগার চত্বরে স্থাপিত বিশেষ আদালতে নেওয়া হয়েছে। ছবি : আলহাজ্ব নুরুদ্দিন আহমেদ

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগার চত্বরে স্থাপিত বিশেষ আদালতে নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানি আজকের মতো শেষ হয়েছে। আদালত এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী বুধবার দিন রেখেছেন।  

আদালতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আইনজীবী তাঁর অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে শুনানি পেছানোর আবেদন করলেও তা মঞ্জুর করেননি বিচারক মাহমুদুল কবির। পরবর্তী সময়ে আজকে মামলার আসামি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে শুনানি শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়। তখন তিনিও সময়ের আবেদন করেন। কিন্তু এর বিরোধিতা করেন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

এই পর্যায়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তাঁর বক্তব্য শুরু করেন। পরে তিনি মুলতবি প্রার্থনা করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমার বয়স ৮১ বছর। আমি অসুস্থ। আমার যে জুনিয়র, তাঁর নানি মারা গেছেন। এই কারণে তিনি গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন। মামলার সব কাগজপত্র তাঁর কাছেই রয়েছে। ফলে দীর্ঘক্ষণ মামলা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে আমি আজকে মামলার মুলতবি চাচ্ছি।’

পরে আদালত আগামী ১৪ নভেম্বর (বুধবার) পর্যন্ত মামলার শুনানি মুলতবি করেন। আজকে মামলার শুনানির সময় আদালতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বিএনপির চেয়ারপারসনের সঙ্গে দলের মহাসচিব আদালতের ভেতর আধা ঘণ্টা মামলার বিষয়ে কথা বলতে চান উল্লেখ করে সময় প্রার্থনা করেন।

কিন্তু বিচারক এই আবেদন মঞ্জুর করেননি। তিনি বলেন, ‘এই এখতিয়ার আমার নেই। আপনি প্রয়োজনে এ ব্যাপারে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। তিনি এ ব্যাপারে আইনি ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।’ 

এর পরই খালেদা জিয়াকে ভেতরে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পরে সেখান থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেছেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসাসেবা শেষ না করেই তাঁকে জোর করে হাসপাতাল থেকে পুনরায় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি এখনো অসুস্থ। এটা নিন্দনীয়। এটা অমানবিক।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে শাহবাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত বিশেষ আদালতের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। কারাচত্বরে গাড়িবহর পৌঁছায় দুপুর ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে। এরপর ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়।  খালেদা জিয়া একটি অফ-হোয়াইট শাড়ি পরে হুইলচেয়ারে করে আদালত চত্বরে আসেন। তাঁকে এ সময় নিরাপত্তাকর্মীরা সহায়তা করেন। খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর গৃহকর্মী ফাতেমা ছিলেন। 

এদিকে, খালেদা জিয়াকে পুরোনো কারাগারে নিয়ে যাওয়ার পথে পথে ব্যাপক নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন বহুতল ভবনের ছাদেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। নাজিমুদ্দিন রোডে বিশেষ নিরাপত্তাচৌকি দেখা যায়। গণমাধ্যমকর্মীদের কারাগারের ফটকের বেশ আগেই আটকে দেন নিরাপত্তারক্ষীরা।

শুনানি থেকে বেরিয়ে এসে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, আজ মওদুদ আহমদ ও খালেদা জিয়ার বক্তব্য শেষ হবে। কিন্তু তাঁর অসুস্থতার কথা বলে সময় প্রার্থনা করেছেন। মওদুদ সাহেব নিজের ব্যাকগ্রাউন্ডে নানা সময় ওই মামলায় সময় নিয়েছেন। আদালত আগামী বুধবার তাঁদের বক্তব্য শুনবেন। সেদিন আদালত অভিযোগ গঠনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন বলে আমরা আশা করছি।’

বিএনপির চেয়ারপারসনের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘মামলাটি আলিয়া মাদ্রাসায় বসত। গতকাল সন্ধ্যায় হঠাৎ করে প্রজ্ঞাপন দিয়ে এখানে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেটা আমার দরজায় লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তাঁর নিজের কিছু শুনানি করেছেন।’

খালেদা জিয়া অসুস্থ উল্লেখ করে সানাউল্লাহ মিয়া আরো বলেন, গাড়ি থেকে নামাতে তাঁকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। উনাকে নামাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনকে হিমশিম খেতে হয়েছে। কাশতে কাশতে তিনি আদালতে গিয়েছেন। সোয়া ১টা পর্যন্ত তিনি আদালতে ছিলেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। এর পর খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। গত ৪ অক্টোবর চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের প্রিজন সেলে নিয়ে আসা হয়। সেখানে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসা করছিল।   

এর মধ্যেই গত ৩০ অক্টোবর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর একদিন আগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেন কারাগার চত্বরে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত।

আজ সেখান থেকেই তাঁকে কারাগার চত্বরে স্থাপিত আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে বিএসএমএমইউ পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, ‘মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা শেষে খালেদা জিয়াকে ছাড়পত্র দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদন ভালো।’

নাইকো দুর্নীতি মামলা সম্পর্কে জানা যায়, ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম নাইকো দুর্নীতি মামলাটি করেন।

পরে ২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক এস এম সাহেদুর রহমান।

অভিযোগপত্রে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement